১০ জুলাই ২০২৬, ২৩:৪৪

চাদাঁবাজির সুরাহা না হওয়ায় ফেসবুক পোস্টে দল ছাড়লেন ছাত্রদল নেতা 

পদত্যাগ করা ছাত্রদলনেতা মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া  © টিডিসি ফটো

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া নামে এক ছাত্রদল নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জানান, আজ থেকে তিনি বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে তার সব সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করছেন।

পোস্টে ইউসুফ মিয়া লিখেছেন, দলের দুঃসময়ে তিনি বিএনপির পাশে ছিলেন, কিন্তু সুসময়ে থাকতে পারলেন না। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় গ্রুপিং, অপপ্রচার এবং নিজ দলের কিছু নেতাকর্মীর কাছ থেকে ত্যাগ ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ায় তিনি হতাশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে শঙ্কিত। এ কারণেই অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আজ থেকে ৪৬ দিন আগে নালিতাবাড়ী থানায় তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এক ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ফেসবুকে ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

পোস্টে ইউসুফ মিয়া আরও বলেন, দলের দুই-একজন নেতা ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে থাকার চেষ্টা করলেও দলীয় গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে তারা কার্যকরভাবে সহযোগিতা করতে পারেননি। তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দলের জন্য তার ত্যাগ, সংগ্রাম, জেল-জুলুম, হামলা-মামলার বিভিন্ন তথ্য দেখার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া বলেন, তিনি নালিতাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের নেতা এবং নালিতাবাড়ী উপজেলা জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেও যথাযথ মূল্যায়ন পাননি। তিনি বলেন, ‘দল যদি কোনোদিন ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করে এবং হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, তখন ভেবে দেখব বিএনপিতে ফিরব কি না।’