মূল্যায়নের জন্য নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতারা
প্রায় মাস খানেক আগে ঘোষিত বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কমিটি থেকে বাদ পড়া পদবঞ্চিত নেতারা সঠিক মূল্যায়ন পেতে সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে এসব নেতাদের ত্যাগ, নির্যাতনের শিকার ও জেল-জুলুমের পাশাপাশি দলের প্রতি আনুগত্যকে কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি অভিযোগ এনে এসব পদবঞ্চিত নেতারা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষন করতে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েকটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালনও করেছে।
এসব মানববন্ধনেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরতে তার বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। এরপর বিএনপির মহাসচিব (স্থানীয় সরকার মন্ত্রী) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হেয়াররোডের সরকারী বাসভবনে সাক্ষাৎ করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিতে অনুরোধ করেন। তাতেও সাড়া না পেয়ে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে পূণরায় সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবারও স্মারকলিপি দেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) রুহুল কবির রিজভী আহমেদের ধানমন্ডির সরকারী বাসভবনে সাক্ষাৎ করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে পদবঞ্চিতদের দেখা করানোর ব্যবস্থা করতে লিখিত অনুরোধ জমা দেন।
এরপর গতকাল ৯জুলাই রাত ১১ টার পর এসব পদ বঞ্চিত যুবদল নেতারা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাথে তার ধানমন্ডির বাসায় সাক্ষাৎ করেন।
যুগ্ম মহাসচিব এ্যানির সঙ্গে সাক্ষাতে এসব পদবঞ্চিত নেতারা সদ্য ঘোষিত যুবদলের ১৫১ সদস্যের কমিটিতে দলের দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত যুব নেতাদের বাদ দিয়ে ব্যাপক অনিয়ম,পদ বাণিজ্য, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, অপরিচিত ও বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে অবহিত করেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রীকে তারা আরও বলেন, ‘আমরা সংবাদ মাধ্যম জানতে পেরেছি যে সম্প্রতি যুবদল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক জরুরী সভায় সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে বিতর্কিতদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি করনের দায় নিয়ে দু'জনের মধ্যে ব্যাপক তর্কাতর্কি ও তুই তোকারি পর্যায়ের বাকবিতণ্ডা সংঘটিত হয় এবং তারা দু'জনে অন্তত ৪ জন বিতর্কিত সদ্য পদায়িত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন।
যেমন-আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় ও চাঁদাবাজ হিসেবে খ্যাত সহ সভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহ। যাকে নিয়ে খোদ সভাপতি প্রশ্ন তুললে তর্কাতর্কির সুত্রপাত হয়। এই সময় সাধারণ সম্পাদকও সভাপতির অনৈতিক সুপারিশে পদ পাওয়া যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সামসুজ্জোহা সুমন ও মনিরুল ইসলাম সোহাগের নাম উল্লেখ করে তাদের দায় সভাপতির উপর চাপালে সভাস্থলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা তৈরির প্রেক্ষিতে জরুরি সভাটি পন্ড বা বাতিল হয়ে যায়।
পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা কমিটির আরো যারা বিতর্কিত, অযোগ্য ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে পদায়িত হয়েছেন অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের নাম পদবি উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানান।
পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি তদন্তের মাধ্যমে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে পদ পাওয়া বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে দলের দুঃসময়ে পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তিকরনের ব্যবস্থা নিতে বিনীত অনুরোধ জানান।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি তাদের বক্তব্য শুনে পদবঞ্চিত যুবদল নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন-আমিসহ বিএনপির হাইকমান্ড এ বিষয়ে অবগত। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি তাদেরকে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, মো. হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল ও জাকির হোসেন খান; যুবদলের সাবেক গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, ছাত্রদল সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আলম, যুবদল সাবেক সদস্য শাহীন আকন্দ, ইসমাইল হোসেন খান শাহীন, জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আরিফ, আনোয়ার জাহিদ, মাসুদ সরকার, সুমন চৌধুরী, গোলাম আজম সৈকত, সবুর খান সাগর, মিরাজ আজিম, স্বপন মন্ডল, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, রবিউল হাসান আরিফ, খন্দকার আমিনুল হক কাকন, নজরুল ইসলাম নাহিদ, ফরিদ খান, মহিবুল্লাহ জয়, খলিলুর রহমান জনি, শরিফ আল ফরহাদ দীপু, ফজলুল হক নিরব, রাকিবুল ইসলাম রোকন, জাহাঙ্গীর আলম, ইয়াকুব রাজু, শফিউল আজম, বিশ্বজিৎ ভদ্র, এম কামরুল হাসান, মাহমুদ খান, দুলাল মাতব্বর, খসরু আহমেদ হিরন, সেলিম রেজা, মাসুদ রানা, মানিক হোসেন, এমদাদুল হক পারভেজ, ইমদাদুল হক, জাহিদুল ইসলাম হিরন, নজরুল ইসলাম, মহিউদ্দিন বেগ সুজন, মহিবুল্লাহ জয়, মোহাম্মদ আরিফ, জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, কবির আহমেদ, আমির হোসেন বাদশা, ও হাসান জাহিদ হিরন প্রমুখ।
সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর কাছে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।