১০ জুলাই ২০২৬, ১৬:২২

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন পলাতক শেখ হাসিনা: রয়টার্স 

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   © সংগৃহীত

চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হবেন বলে জানিয়েছেন ২০২৪ সালে গণ-অভ্যূত্থানে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অন্তবর্তী সরকারের আমলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দলটির বেশ কয়েকজন নেতাও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন শেখ হাসিনা ।

বৃহস্পতিবার রাতে গণ-অভ্যুত্থানে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থান করা ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার ১ ঘণ্টার একটি সাক্ষাৎকার নেয় রয়টার্স। সেখানে দেশে ফেরা নিয়ে বার্তা সংস্থাটিকে তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তারপরও আমাকে যেতে হবে। আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে।’

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে টানা ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। এরপর একই বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে হত্যার আদেশ দেওয়ার দায়ে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা অবশ্য শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

রয়টার্সের দাবি, দুই বছরের পলাতক জীবনে এবারই প্রথম শেখ হাসিনা কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন এবং দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে আত্মসমর্পণের কথা জানালেন। তার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তারও একটি সুরাহা হতে পারে। কারণ বাংলাদেশ সরকার প্রতিনিয়ত ভারতকে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে আসছিল। এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা কর্তৃপক্ষ আমাকে ফিরিয়ে নিতে বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।’

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেননি। তার দাবি, ‘আমাদের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। তাই আমি বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি, আপনারাও একদিন সবাই চলে আসুন। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করব।’


তবে ঠিক কোন দিন বা কোন তারিখে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সেটি তিনি প্রকাশ করেননি। বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রয়েছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিচারে বিশ্বাস করি। তবে আমি মনে করি, একবার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে জনগণের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।’

ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে দল নিষিদ্ধ করার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা হয়তো আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন তারা নিষিদ্ধ বা স্থগিত করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে তার বিচার দেশের জনগণকেই করতে দেওয়া হোক।’