০৯ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৪

ফেনীতে এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে দফায় দফায় হাতাহাতি-মারধর

দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা  © সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অনুষ্ঠান মঞ্চে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, পদযাত্রা শেষে সোনাগাজী পৌর চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মঞ্চে অবস্থান নেন। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে মঞ্চ থেকে বক্তব্যের জন্য এনসিপির জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল যোবায়েরের নাম ঘোষণা করা হলে জেলা কমিটির সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিকের অনুসারীরা এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে অতিথিদের পেছনে মঞ্চেই দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরবর্তী কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে যোবায়ের আর বক্তব্য দেননি।

পরে অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সভাস্থলের সামনের সড়কে এনসিপির জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়ের আল মুজাহিদকে লাথি দিয়ে জুলাই যোদ্ধা শাহাদাতসহ কয়েকজন মারধর শুরু করেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর মঞ্চের সামনে তৃতীয় দফায় স্থানীয় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মীর মাঝে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।   

এনসিপির সোনাগাজী উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রথম ঘটনায় মঞ্চে জেলা এনসিপির জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল যোবায়েরকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হলে অন্য যুগ্ম সদস্য সচিবরা বিরোধিতা করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরবর্তী অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিব এবং কেন্দ্রীয় নেতা নিজাম উদ্দিনের মোবাইল ফোনসহ অন্তত ৫-৬টি ফোন হারিয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষে মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও কিছুটা বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা বসে আলোচনা করব। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনসিপির ফেনী জেলা আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল যোবায়েরের নাম ঘোষণা করলে তাৎক্ষণিক জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিকের অনুসারীরা এতে বাধা দিয়ে মঞ্চে হট্টগোল সৃষ্টি করে। তখন কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠান শেষে আবারও অন্য দুই গ্রুপ মারামারিতে জড়িয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এ সময় আমাদের জেলা কমিটির জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়ের আল মুজাহিদকেও আক্রমণ করে। ওই হামলাকারীরা কোন পদ-পদবিতে নেই। হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার ভিডিওগুলো আমরা ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। তারা ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করছেন। শিগগিরই এসব ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এর আগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’-এ অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এর মাধ্যমে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচির সূচনা হয়। কর্মসূচি শুরুর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে দুইজন শহীদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা।