০৫ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩২

এমডির অন্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া লিটু যুবদলের কেউ নয়

স্বাক্ষর নেওয়ার সময় সিসিটিভি থেকে নেওয়া ছবি, ইনসেটে যুবদলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি  © টিডিসি সম্পাদিত

অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও অন্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন বলে দাবি করেছে বরিশাল মহানগর যুবদল।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি করেন। একই ঘটনায় সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান চপল স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদর রহমান মাসুদ বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি যুবদলের কেউ নন, এমনকি বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত নন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। সংগঠনটির দাবি, তিনি অতীতেও বরিশাল মহানগর যুবদলের কোনো পদে ছিলেন না এবং বর্তমানে দলের কোনো পদ-পদবীতেও নেই। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন এবং বরিশাল মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিশ্চিত করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানায় মহানগর যুবদল।

আরো পড়ুন: এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করা সেই লিটু গ্রেপ্তার

এর আগে গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে মারধর করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর বিরুদ্ধে।। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিওটি গত ৪ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নগরীর কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আব্দুল আজিজকে ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

আরো পড়ুন: এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু অফিসে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

আব্দুল আজিজ জানান, ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।

এ ঘটনায় আজ রবিবার (৫ জুলাই) বেলা ২টার দিকে নগরের সদর রোডের টপ টেন নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা সবাই অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।