০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯:২১

বিচার হলে গর্ত থেকে উঁকি দিয়ে কথা বলার সাহস পেত না কেউ: সারজিস

সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম  © সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। 

তিনি বলেছেন, আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি যে বেশ কিছু মানুষ, যাদের নাম বলে আমরা গুরুত্ব আরোপ করতে চাই না, তারা জুলাইকে নিয়ে বা এই অভ্যুত্থানকে নিয়ে স্বৈরাচারের পক্ষে, খুনিদের পক্ষে, গণহত্যাকারীদের পক্ষে কথা বলছে। তিনি আরও বলেন, যদি বিচারের রায় হতো এবং রায় কার্যকর হতো, তাহলে আজকে তারা কখনোই গর্ত থেকে মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে এই কথাগুলো বলার সাহস পেত না, 

আজ শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

সারজিস বলেন, যারা ১৪০০ মানুষকে খুনের নেতৃত্ব দিয়ে শাপলায় গণহত্যা ঘটিয়েছে, পিলখানায় গণহত্যা ঘটিয়েছে, এই মানুষদের পক্ষে যারা এখন সাফাই গাইছে। আমরা যারা জুলাইয়ে একসাথে অংশগ্রহণ করেছিলাম, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দল, এটা আমাদের সামগ্রিক দায়বদ্ধতা যে, আমরা ওই সকল গোপন এবং প্রকাশ্য খুনিদের এবং তাদের সহযোগীদের এখন পর্যন্ত বিচার নিশ্চিত করতে পারিনি।

তিনি বলেন, শহীদ শরীফ হাদিকে দিনের দুপুরে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো, সবকিছুর ফুটেজ আছে। তার হত্যাকারীদেরকে ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে, তাদেরকে ফিরিয়ে এনে যখন বাংলাদেশে এনে বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তখন আসলে ওই গণহত্যাকারীর সহযোগীরা কিংবা গণহত্যার দোষীরা এভাবে সাহস পাবে, আস্ফালন শুরু করবে। এই জন্য বিএনপিকে সরকার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে, যেন দ্রুত আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এবং আমাদের বিচার বিভাগের মাধ্যমে এই বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো শেষ হয় এবং রায়ের পরে যেন অতিদ্রুত এগুলো কার্যকর হয়।

এসময় এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপি দেশজুড়ে ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা আগামী ৬ জুলাই থেকে শুরু হবে। উত্তরাঞ্চলে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে এবং দক্ষিণাঞ্চলে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মুখ্যপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিশ্বাস করে জুলাই শুধু একটি মাস নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ, আকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতীক। তাই এই মাসব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, শহীদদের অবদান স্মরণ করা এবং দেশ গঠনের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করাই হবে এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণ সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থীসহ সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান তিনি। 

তিনি আরও বলেন, প্রথম ধাপে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি অংশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় আমাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছি। সেই ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভাতেই আমরা আমাদের এই জুলাই পদযাত্রা করছি, যা ৬৪ জেলাতেই কাজ করবে। এই পদযাত্রার মধ্য দিয়ে যেমন আমরা আমাদের জুলাইয়ের বার্তাগুলো মানুষের দ্বারে জেলা থেকে উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে পারবো, একই সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষের কথাগুলো শুনে সেগুলোর প্রতিধ্বনি তৈরি করতে পারবো। 

এসময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, মেহের আফরোজ শাওনসহ কতিপয় ফ্যাসিবাদী চক্রের কুশীলবদের মন্তব্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। জুলাইয়ের যত ফ্রন্ট আছে, জুলাইয়ের যত শক্তি আছে, জুলাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত যত ছাত্র, জনতা, সাংবাদিক, স্পেশালিটি মানুষ আছেন—প্রত্যেকেই কিছু প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমরা মনে করি, জুলাই সবার। জুলাই জনগণের। জুলাই বাংলাদেশের জনগণের মসজিদ ছিল। আমাদের জনগণ জুলাইয়ের মধ্য দিয়ে নতুন পরিবর্তনের, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে।