ছাত্রদলের বিক্ষোভের পরপরই জামায়াতের পাল্টা বিক্ষোভ
পটুয়াখালীর বাউফলে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা ছাত্রদল। এ মিছিলের পরপরই পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের বাসভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। পরে মিছিলটি উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাউফল সরকারি কলেজের ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
উপজেলা ছাত্রদলের মিছিলে স্থানীয় সাংসদ ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া হয়। মাসুদের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে— ছাত্রদলের দেওয়া এ স্লোগানের ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ব্যানারে উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা।
জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেন— "জুলাইয়ের গাদ্দার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।"
বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ খান জানান, গত কিছুদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তারা একত্রিত হয়ে সম্প্রতি যুবদলের শোভাযাত্রায় হামলা চালায়। ওই হামলায় বিএনপির ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হন এবং ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে মিছিলের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সাংসদকে নিয়ে নেতিবাচক স্লোগান দিয়েছেন। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ছাত্রদল বিবৃতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ছাত্রদল ও বিএনপি প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তাদের কর্মকাণ্ডে উপজেলাবাসী বিরক্ত। নিজেদের দায় ঢাকতে তারা আমাদের দোষারোপ করছে। ছাত্রদলের নেতারা একজন সাংসদকে নিয়ে এ ধরনের ভাষায় স্লোগান দিয়ে রাজনীতির সৌন্দর্য নষ্ট করেছেন। তাই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছি।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।