শাওনের বক্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ দাবি করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জেডিপির
অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শাওনের বক্তব্য ‘উস্কানিমূলক’ এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের প্রতি অবমাননাকর।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতের একটি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রকাশের কয়েক দিনের মাথায় মেহের আফরোজ শাওন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, বিষয়টিকে নিরীহ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শাওন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে জনসাধারণকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছেন, যাতে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে না আসে।
নাঈম আহমাদ আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে পরে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে মুক্তি দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে মুক্তি দিয়েছিল বলে গুঞ্জন ছিল। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। তখন তাকে যথাযথভাবে আইনের আওতায় আনা হলে বর্তমানে এ ধরনের মন্তব্য করার সুযোগ পেতেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের কেউ যদি তাঁকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, তবে তা বুমেরাং হবে।
জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, মেহের আফরোজ শাওনকে বয়কট করা দেশপ্রেমিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সব গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে কাজ করলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সেই ক্ষোভকে ‘মব’ আখ্যা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। সরকারকে বিপদে ফেলতেই শাওন এ ধরনের তৎপরতা শুরু করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমের সঞ্চালনায় দলের প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির, নাজমুন নাহার হাফসা, ইয়াসিন আরাফাত রাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য শেহনাজ রশিদ খান, আবদুল হামিদ এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।