ভাগে-যোগে সরকারি মাল বিতরণ, সাইকেল ফেরত দিলেন জামায়াত নেতা, খোঁজ নেই বিএনপির
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সরকারি বরাদ্দে কেনা বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইল চেয়ার দুই দলের নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এর মধ্যে, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম এক মাদ্রাসাছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিয়ে নিজের নাতনিকে উপহার দেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দেন ওই জামায়াত নেতা।
জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাইমুনকে সেই বাইসাইকেল না দিয়ে উপজেলা জামায়াত আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজে স্বাক্ষর করে বাইসাইকেলটি নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেটি নাতনির জন্য পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্র সাইমুন ইসলাম জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বুধবার সাইকেলটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে শুধু জামায়াতের আমিরই নন, বিএনপি নেতারাও এসব সরকারি বরাদ্দকৃত সাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন নিজেদের স্বজনদের মাঝে বণ্টন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে সাইকেলটি তার প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছে বললেও পরে তিনি জানান, তার ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার নাতনিকে দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, বরাদ্দকৃত এসব মালামাল জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বিতরণের জন্য।
সরকারি মালামাল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি ও অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা শোনা যাচ্ছে, এমন ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করবে। সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এদিকে জামায়াত নেতার এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক শের আলী বলেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে এবং সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের এভাবে সরকারি বরাদ্দের মালামাল নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী বলেন, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে বাইসাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হয়।
তিনি আরো বলেন, বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ (যেমন- সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি) বিতরণে আর কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
যদিও এখন পর্যন্ত বিএনপি নেতাদের কারো পক্ষ থেকে মালামাল ফেরত দেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।