২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮

সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ৩৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

৩৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা  © সংগৃহীত

যশোর সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন বিপুলসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) রাতে বসুন্দিয়া সদুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা উত্তর ভাষানটেক ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এহসানুল হক লিটু, দেয়াড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান, রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুড়লির মাহমুদুল হাসান লাইফ, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন, জঙ্গলবাঁধাল গ্রামের নাজিম উদ্দীন, একই এলাকার আজাদ কালু, উপশহরের মনসুর ও চিমা, নওদা গ্রামের আব্দুস সালাম, ঝুমঝুমপুরের জাভেদ, বালিয়াডাঙ্গার রবিউল ইসলাম, ধর্মতলার বাবু, আরবপুরের দাতাল বাবু, বাহাদুরপুরের কামরুজ্জামান, আমিরুল ইসলাম, কাশিমপুরের ইব্রাহিম মেম্বার, জঙ্গলবাঁধালের মাসুদ হোসেন, ঘুনি গ্রামের জিতু মোল্লা, রায়মানিক সরদারপাড়ার মোহাম্মদ আলী, ঘুনি গ্রামের জিল্লুর রহমান, জঙ্গলবাঁধালের জিল্লুর রহমান মোল্লা, রাকিব, পদ্মবিলার সিজন ও ইসলাম, জিরাট গ্রামের ইউসুফ, চাউলিয়ার ইশা, দাইতলার আব্দুল কাদের, আমদাবাদের ডাবলু, কচুয়ার মুরাদ হোসেন, ঘুনির আফসার বিশ্বাস, আমদাবাদের রবি, জামির, শরিফুল, পদ্মবিলার ইসলাম বিশ্বাস, মুরাদ হোসেন, রাজিবুল রাজিব এবং সদুল্লাপুরের আলমগীর কবির পিন্টু।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ৬ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বসুন্দিয়ায় নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি খবর পান যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জঙ্গলবাঁধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান করছেন। তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছেন এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে তিনি স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, আসামিরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে পাশের ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন। এ সময় তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ছবি ভাঙচুর করেন।

মামলায় নাম থাকা অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন) মমিনুল হক বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলায় আরও ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা বলেন, রাজনৈতিক মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হলে অনেক সময় প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হন। অতীতে ধরপাকড়, পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। তাই এ মামলার তদন্তে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও সতর্কতা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।