গোপালগঞ্জ নাই, বগুড়াও নাই, রংপুর বিভাগ তাই বরাবরের মতোই অবহেলিত
বন্দরনগরী, পর্যটন কেন্দ্র কিংবা গোপালগঞ্জ ও বগুড়ার মতো জেলা না থাকায় রংপুর বিভাগ বরাবরের মতো অবহেলিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এর প্রতিফলন ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আজ সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিনে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন জাগপা সভাপতি।
তাসমিয়া প্রধান বক্তব্যদানকালে বলেন, আমি বাংলাদেশের সর্ব-উত্তরের পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সন্তান। স্বাধীনতার পর দেবীগঞ্জ উপজেলার প্রথম একজন মহান সংসদে কথা বলছে। স্বাধীনতার পূর্বে আমার দাদা দমিরউদ্দিন প্রধান দেবীগঞ্জের সন্তান হিসেবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইনফ্যাক্ট পঞ্চগড়কে আমরা ল্যান্ড অব স্পিকারস বলি। পঞ্চগড় জেলার অনেক সংসদ সদস্য স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
তিনি বলেন, দেবীগঞ্জসহ বোদা, পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারি ও তেঁতুলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত পঞ্চগড় জেলাটি রংপুর বিভাগে অবস্থিত। রংপুর বিভাগে কোনো বন্দরনগরী নেই, পর্যটননগরী নেই, গোপালগঞ্জ নেই, বগুড়াও নেই। রংপুর বিভাগ বরাবরের মতোই অবহেলিত।
প্রস্তাবিত বাজেটেও রংপুর বিভাগকে অবহেলার প্রতিফলন ঘটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এই বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। বছরের পর বছর লালমনিরহাট এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালু করার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
তাসমিয়া প্রধান বলেন, ভারত থেকে চিনি আমদানি সহজ করার হীন উদ্দেশ্যে ২০২০ সালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার সমস্ত চিনিকল বন্ধ করে দিয়েছে। রংপুর জেলার শ্যামপুর চিনিকল, গাইবান্ধা চিনিকল, দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ চিনিকল এবং আমার নিজ জেলা পঞ্চগড় চিনিকলটি চালু করার কোনো রিফ্লেকশন এই বাজেটে আমি দেখিনি। রংপুর বিভাগে দৃশ্যমান কোনো মেগাপ্রকল্প নেই।