আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে দেবে না যুবদল-ছাত্রদল
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোকে (ছাত্রলীগ ও যুবলীগ) বিভিন্ন সময়ে ও ইস্যুতে ঝটিকা মিছিল করতে দেখা গেছে। আগামীকাল ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত পতিত আওয়ামী লীগ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় ঝটিকা মিছিলসহ নানা কর্মসূচি থাকতে পারে নানা মহল থেকে আলোচনা হচ্ছে। তবে এবার নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির যেকোনো ধরনের মিছিল, শোডাউন বা রাজনৈতিক তৎপরতা রাজপথে কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রধান দুই সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদল।
আগামীকাল ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনসমূহ ঘোষণা দিয়েছে, আগামীকাল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত পতিত আওয়ামী লীগকে দলটির মাঠে নামতে দেবে না এবং যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেকোনো মূল্যে আওয়ামী লীগের যেকোনো অপতৎপরতা রাজপথেই রুখে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বিবেচনা করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠের দখল নিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার একটি চেষ্টা চালাতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ যাতে মাঠে নেমে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে গত দুদিন আগে থেকেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীকে ইতোমধ্যে আটকও করা হয়েছে। তবে এর মাঝেই দেশের কিছু কিছু স্থানে দলটির নেতাকর্মীরা হঠাৎ ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসছে।
এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজপথে প্রতিহত করার চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সার্বিক পরিস্থিতি ও দলীয় অবস্থান নিয়ে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘কোনোভাবেই পতিত ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজপথে নামতে দেওয়া হবে না। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাঠে নেমে তারা নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাবে, তা দেশের সচেতন ছাত্র-জনতা ও যুবসমাজ কখনোই সহ্য করবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের নেতাকর্মীরাও রাজপথে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।’
এ দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা–২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে চিঠিটি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় ৯ দিনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়।
২২ থেকে ৩০ জুন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা কাজ করবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৩ জুন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দিনটি সামনে রেখে দলটি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করতে পারে, যা বেআইনি।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচি কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ এই দিন উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। একই সঙ্গে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরের সব কটি প্রবেশপথে কড়া চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে, যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় থাকবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ১৮ হাজারের বেশি অফিসার ও ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।