শিবির নেতার প্রেম নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দেখেছি, ওনার আসনে মা-মেয়েকে ধর্ষণ নিয়ে দেখিনি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ শিবির নেতার প্রেম নিয়ে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দিলেও তার নিজ নির্বাচনী আসনে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে ধর্ষণ নিয়ে কোনো বিবৃতি দেননি বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। একই সঙ্গে হান্নান মাসউদের নির্বাচনী আসনে শাপলাকলিতে ভোট দেওয়ায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়েও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আজ রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে এমন কথা বলেন হান্নান মাসউদ।
এমপি হান্নান মাসউদ বলেন, গত ৪ মাসে ১৭ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ১১৮ জনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশে এই ধর্ষণের সংখ্যা ৫ শতাধিক, ৬ শতাধিক খুনের ঘটনাও ঘটেছে। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শিবির নেতার প্রেমজনিত বিষয় নিয়ে বিবৃতি দিতে দেখেছি। কিন্তু উনার নিজ আসনে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি নিয়ে কোনো বিবৃতি এই সংসদে দেখিনি। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার-সুবিচারের কথা বললে সেটা যদি দলীয় হয়ে যায়, তাহলে বড় সমস্যা।
শাপলাকলিতে ভোট দেওয়ায় এক নারীর ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি সংসদে পুনরায় উত্থাপন করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আমার এলাকায় অভিযোগ উঠেছে, শাপলাকলিতে ভোট দেওয়ার কারণে বিএনপির লোকজন একজন নারীকে ধর্ষণ করেছে, আজ পর্যন্ত এটার কোনো সরকারি তদন্ত রিপোর্ট নাই। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা দিবেন কিনা আমি জানি না।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন হান্নান মাসউদ। বলেন, আমরা এমন এক মিরাকল সংসদে আছি, যে সংসদে আমরা ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করে এসেছি, সকলেই কম-বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি— কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, সীমান্ত হত্যা নিয়ে ভারতের দালালি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ যেভাবে করত, ঠিক একইভাবে এই সংসদের মন্ত্রীরাও ভারতীয় ভাষায় কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিত, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন যে সকল সীমান্ত হত্যাকে হত্যা বলা যাবে না। আমরা বলছি, প্রত্যেকটি সীমান্ত হত্যাই হত্যা, প্রত্যেকটি সীমান্ত হত্যাই আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও মব কালচার নিয়েও কথা বলেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, এতদিন ধরে মব কালচারের কথা বলা হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশ ব্যাংকে মব সৃষ্টি করে গভর্নরকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বাসসে মব সৃষ্টি করে বাসসের এমডিকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কেন? সরকার ক্ষমতায় আছে। সরকার তো তাদের প্রত্যাহার করে নিলেই বা চুক্তিভিত্তিক চাকরি, নিয়োগ বাতিল করে দিলেই হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে সরকার মবের আশ্রয় নিয়েছে।