২০ জুন ২০২৬, ২১:৫৫

হানজালা এমপি হওয়ায় ‘লজ্জা পাচ্ছেন’ রাশেদ খাঁন

পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপি ও রাশেদ খাঁন  © টিডিসি সম্পাদিত

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার একটি সালিশ বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে ধমক ও টেবিল চাপড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এ সময় ওই ব্যক্তিতে তিনি বলেছেন, ‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব।’ তার এমন বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 

এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। ফেসবুকে নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এমপি হানজালারে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে  টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কিভাবে এমপি হলো?’

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিল আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিল? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে। হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধীদলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিত।’

জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে সংসদ সদস্য হানজালা উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলছেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, ‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের ‘চর বাচামারা মৌলভীকান্দি’ গ্রামে তারা মিয়া নামে বিএনপির এক কর্মীর সঙ্গে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ওই এলাকার একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই পক্ষের লোকজনই উপস্থিত ছিলেন। সালিশে একপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন এমপি। এরপরই শুরু হয় হট্টগোল। এ সময় উত্তেজিত হয়ে যান সংসদ সদস্য। পরে বিএনপি কর্মী তারা মিয়াকে ধমক গিয়ে কথাগুলো বলেন এমপি। 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তারা মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। ওই সালিশ বৈঠকে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষমেষ ১ লাখ টাকা জরিমানাও করেন। যাকে জরিমানা করেন তিনি গরিব এবং অসহায় মানুষ। তার পক্ষে এই জরিমানার অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্যসহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।’

জানতে চাইলে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না। পরে আমি গিয়েছি। সালিশের সময় উভয়পক্ষই কথা বলতেছিল। তর্কে জড়াইছিল। তারা বেশ ঝামেলা করতেছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে। এখন ভিডিও ছড়িয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’