ঝিনাইদহে আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ১৮
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে তজিবার মোল্লার বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে একটি পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমানের ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।
এর জের ধরে শনিবার সকালে বজলুর রহমানের সমর্থক এবং একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মশিউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়। পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা মশিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবারের ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আমার অন্তত ১০ জন সমর্থক আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পর থেকে বোয়ালিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে।
হরিণাকুন্ডু থানার ওসি (তদন্ত) আসিত কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।