২০ জুন ২০২৬, ১৩:৪৪

‘তিনটা ইউনিয়ন মানে তো বাংলাদেশ না’— শাহে আলমের পক্ষে যা বললেন নিলোফার মনি

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও নিলোফার চৌধুরী মনি  © সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই একাধিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ইউনিয়ন পুনর্গঠন, নামকরণ, উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সংসদেও আলোচনায় আসে এবং পরে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে প্রতিমন্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইনগত কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত মূলত বগুড়ার শিবগঞ্জ ও আশপাশ এলাকায় নতুন ইউনিয়ন গঠন ও নামকরণকে কেন্দ্র করে। সংসদে বিরোধী দলের এক সদস্য অভিযোগ করেন, নতুন তিনটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক পরিচয় ও তার দুই সন্তানের নামের সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছে। পরে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের পক্ষ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের (ঢাকা-১০) সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি বলেন, তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে পুরো বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা যায় না। কোনো ইউনিয়নের নাম কারও নামে রাখা হলেই তিনি ওই এলাকার মালিক হয়ে যান না। দেশের বেসরকারি এক টেলিভিশনের এক টক-শোতে তিনি এসব কথা বলেন। 

নিলোফার চৌধুরী বলেন, বগুড়ার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, একটি, দুটি বা তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে পুরো বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা যায় না। কোনো ইউনিয়নের নাম কারও নামে রাখা হলেই তিনি ওই এলাকার মালিক হয়ে যান না। এ বিষয়ে মন্ত্রীও এটিকে কাকতালীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে কাকতালীয় না হলেও কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগে থেকেই ওই ব্যক্তির বা তার পরিবারের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেকেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নাম নিজেদের নামে রাখতে পছন্দ করেন, আবার অনেকে তা করেন না। কেউ কেউ মৃত্যুর পরও নিজের নাম স্মরণীয় করে রাখতে এমন উদ্যোগ নেন।

এই নারী সংসদ সদস্য বলেন, তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ মানেই বাংলাদেশ নয়। দেশে হাজার হাজার ইউনিয়ন রয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে পুরো দেশের পরিস্থিতি বিচার করা উচিত হবে না। তার দাবি, বগুড়ায় এ ধরনের উল্লেখযোগ্য কিছু এখন পর্যন্ত ঘটেনি।