১৯ জুন ২০২৬, ২০:৩৬

মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ প্রস্তাবিত বাজেট: জাতীয় শ্রমিক শক্তি

জাতীয় শ্রমিক শক্তির উদ্যোগে জাতীয় সেমিনারে বক্তারা  © টিডিসি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ এবং জনস্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তি। সংগঠনটির নেতারা শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় শ্রমিক শক্তির উদ্যোগে আয়োজিত ‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকিরের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ঋয়াজ মোর্শেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান এবং এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।

সেমিনারে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় কমানো হয়েছে, যা দেশের বিপুল শ্রমশক্তির উন্নয়ন ও কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিদেশগামী শ্রমিকদের ব্যয় কমানোর বিষয়ে কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা বরাদ্দ নেই।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় বাজেটে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সদস্যসচিব ঋয়াজ মোর্শেদ অভিযোগ করেন, জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো অর্থবহ সংলাপ হয়নি। ফলে শ্রমিক শ্রেণির বাস্তব চাহিদা বাজেটে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন, শিক্ষা, পেনশন এবং বেকারত্বকালীন সহায়তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু এবং কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাজেটকে ‘হাওয়াই মিঠাইয়ের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এতে বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। তিনি বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সেমিনার থেকে জাতীয় শ্রমিক শক্তি শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে জাতীয় তহবিল গঠন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, শিল্পাঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, শ্রমিকদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পেনশন ও স্বাস্থ্যবিমা চালুসহ বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করে।

এছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীন কার্যক্রম নিশ্চিত করা, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের শিক্ষার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখারও দাবি জানানো হয়।