১৯ জুন ২০২৬, ১৭:৫৭

মদের বারে ডেকে তরুণীকে যৌন হয়রানি, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

পদপ্রত্যাশী নারী কর্মীর সংবাদ সম্মেলন, ইনসেটে- অভিযুক্ত সুজা উদ্দিন  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলটির এক নারী কর্মী।

শুক্রবার (১৯ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এসময় নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন ওই তরুণী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নারীশক্তির কমিটি নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনার কথা বলে এনসিপির মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিন তাকে গত ১৪ জুন নগরীর পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বৈঠকের স্থান হিসেবে নির্ধারিত জায়গাটি হোটেলের রুফটপ বার।

তার অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন। ওই পরিবেশে তাকে ধূমপান ও পানীয় গ্রহণে উৎসাহিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

তরুণীর ভাষ্য, তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করলে সাদিয়া আফরিন তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে সাদিয়া স্থান ত্যাগ করলে সুজা উদ্দিন তার প্রতি আপত্তিকর আচরণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তরুণীর অভিযোগ, পরে বিষয়টি নিয়ে সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি তাকে বলেন, রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে হলে প্রভাবশালী নেতাদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয়।

এ ঘটনায় গত বুধবার (১৭ জুন) চকবাজার থানায় আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারী।

জিডিরি বিষয়ে জনাতে চাইলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একটি জিডি হয়েছে এবং আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। 

এবিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত এনসিপি নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। 

এবিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক ও চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। যদি এসএম সুজাউদ্দিন দোষী প্রমাণ হয়, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যদি এর সত্যতা না মেলে, অর্থাৎ এটি হয়রানিমূলক হয়, তাহলে এসএম সুজাউদ্দিন মানহালির মামলা করতে চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।