১৯ জুন ২০২৬, ১৬:৪৬

শাহে আলমের নামে আছে ৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আরও একটি নামকরণের প্রস্তাব

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়  © টিডিসি সম্পাদিত

এবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫৩ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামের এই প্রতিষ্ঠানটিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নামটি চূড়ান্ত হলে প্রতিষ্ঠানটির নাম হবে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও মতামত দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় তার নামে অন্তত ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বংশীয় পদবী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে বালিকা বিদ্যালয়, মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, কারিগরি স্কুল ও কলেজ, পূর্ণাঙ্গ কলেজ, কৃষি ও মৎস্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট এবং ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট। পূর্ণাঙ্গ কলেজটি চলতি বছর উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে মতামত প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

এদিকে গত ৯ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বগুড়া জেলা প্রশাসককে দেওয়া চিঠিতে শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত নাম যাচাই-বাছাই ও মতামত প্রদানের নির্দেশনা দেন।

মীর শাহে আলমের স্ত্রীর নামে আছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির নতুন নাম হবে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ, বগুড়া’।

বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

এ অবস্থায়, প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২৩ সালের ১৩ জুলাইয়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা-২০২২ (সংশোধিত-২০২৩)-এর অনুচ্ছেদ ১৪.৫ অনুযায়ী উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সুস্পষ্ট মতামত ও যৌক্তিকতাসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব সুপারিশসহ প্রতিবেদন এ বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বয়স ৫৩ বছর। অপরদিকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭০ সালে।

বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ

উল্লেখ্য, বংশীয় পদবী, দুই ছেলে ও ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের রেশ না কাটতেই এই নামকরণের প্রস্তাব সামনে এলো। ইতোমধ্যে নিজ এলাকার চারটি ইউনিয়নের নামকরণ হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের নামে। এগুলো হলো— ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’। এর মধ্যে মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত প্রতিমন্ত্রীর ছেলের নাম। আর মীর স্বর্ণ তার ভাতিজির নাম।

শাহে আলমের নামে রয়েছে একটি কৃষি ও মৎস্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর মীর শাহে আলমের এই নাম-প্রীতির সূচনা নতুন নয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তিনি নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। এই প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর নামে ‘মীর লাবণী আক্তার’ ভবন রয়েছে। ‘বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কৃষি ও মৎস্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট’ নামে আরও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৩ সালে। এরপর ২০২৩ সালে বেতগাড়ি মীর মাহাতাব–শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়, কিচক মীর শাহে আলম কলেজ এবং ২০২৫ সালে বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।

এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি প্রতিমন্ত্রী হয়ে তিনি নতুন উপজেলা সদরে ‘মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়’ উদ্বোধন করেন।

সম্প্রতি নিজের নামে একটি কলেজ উদ্বোধন করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

নিজের নামের বাইরেও প্রতিমন্ত্রী বংশীয় পদবী এবং স্ত্রীর নামেও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো— মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯৭), বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা (২০০৪) এবং তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২)।

অবশ্য স্ত্রী-সন্তানের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের। দুই ছেলের নামে রয়েছে ‘মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন’, একই সঙ্গে স্ত্রী-কন্যার নামে রয়েছে ‘মীর লাবণী-নুসাত ফিলিং স্টেশন’। এ ছাড়া মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং নামেও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই পরিবারের।