১৯ জুন ২০২৬, ১৬:২১

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সর্বমন্ত্রী’ বলে জামায়াত আমিরের খোঁচা

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলয়ি নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার (প্রধানমন্ত্রীর) সহকর্মী, যাকে বলা হয় তিনি “সর্বমন্ত্রী”। সব মন্ত্রণালয়ে তিনি আজানও দেন, একামতও দেন। মাঝে মাঝে তিনি সংসদে ফতোয়াও দেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায় এ জন্য আমরা এগুলো বলেছিলাম। লজ্জা...! একটা সংগঠনের শীর্ষ জায়গা থেকে যদি জনগণকে এভাবে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে কেন?

আজ শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিএনপি প্রথমে চুপ থাকলেও, নীরবে ‘না’ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে জনরোষের মুখে রংপুরে বলতে বাধ্য হয়েছিল, ১২ তারিখ দুটি ভোট। একটি গণভোট, আরেকটি জাতীয় সংসদের ভোট। তিনি হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, তিনি তো সেই দলটির নেতা, বর্তমান সংসদে তিনি সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী, সরকারের প্রধান, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী। তিনি এই যে বললেন কথাটা, সেই গণভোটে ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ভোট দিলো, তাদের ভোটের মূল্যটা তিনি কী দিলেন? তিনি শপথ নিয়েই গণভোটকে অস্বীকার করলেন।

সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ; ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত; বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত অনুগত দলের কর্মীদেরকে ভিসি হিসেবে বসিয়ে দেওয়া; জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডার এবং নেতাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া; এইভাবে একটা দলীয় শাসন—একদলীয় শাসন বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার এই সংস্কৃতি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ। সবচেয়ে বেশি গালি দিতো বিএনপিকে। সাথে সাথে আমাদেরকেও একটু রাখতো, ছাড় দিত না। এখন বিএনপিও ওই পুরোনো আওয়ামী লীগ যা বলতো, সেই পুরোনো আমলের কথাগুলো এখন তারাও জপা শুরু করেছে। যে কথাগুলো জপতে জপতে আওয়ামী লীগ গিয়ে পড়েছে দিল্লিতে, আপনারা সেই কথাগুলো জপতে জপতে কোথায় গিয়ে পড়বেন?’

তিনি আরও বলেন, জনগণ এগুলো খায় না! তরুণ-যুব সমাজ এগুলো শুনতে চায় না। তরুণ-যুব সমাজের মুখের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন, না হলে ভুল করবে। আমরা আশা করতে চাই, সরকার নিজেদের ভুল নীতি পরিহার করে জনকল্যাণমূলক, জনবান্ধব নীতিতে ফিরে আসবে।