হাসনাত-সাদিক কায়েমদের প্রোগ্রাম অক্সফোর্ড ইউনিয়নেরই ছিল, নিশ্চিত করলেন নাবিলা
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচিত প্রোগ্রামটি অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আয়োজনে হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, সামাজিক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মী এবং গুম কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস ।তিনি জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম অংশ নেওয়া এই প্রোগ্রামটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার জবাব অক্সফোর্ড ইউনিয়নের পক্ষ থেকেই স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্টে তিনি অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেস উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের দেওয়া ব্যাখ্যার বিষয়টি তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লেখেন—‘অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেস উইংকে মিডিয়া থেকে যোগাযোগ করলে দেখলাম, ওই বেচারারা একচুয়ালি জবাব দিচ্ছে যে অনুষ্ঠানটা ইউনিয়নের ছিল কিনা! মিডিয়া থেকে হলে আপনিও ওদের কাছে জবাব চাইতে পারেন: [press @ oxford-union ডট org]। যাহোক, ওদের জবাবটা আমার হাতেও পৌঁছেছে। পড়ে টু বি অনেস্ট “ধরণি দ্বিধা হও” টাইপ ফিলিংস এসেছে।’
এরপর তিনি আরও লেখেন,‘২০০ বছর পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে অনেক কিছুই ফেস করতে হয়েছে। কিন্তু তাদের অনুষ্ঠান যে তারাই আয়োজন করেছে -- অন্য কোনো সোসাইটি করেনি, অন্য কেউ হল ভাড়া নেয়নি— এই উদ্ভট জবাব শুধু ২০২৬-এর বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশীদেরই দেওয়া লাগল। ইউনিয়নকে এমনকি এটাও এক্সপ্লেইন করতে হয়েছে যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং ইন্টারিম, সবাইকে প্যানেলে রাখতে তারা অফিশিয়ালি অ্যাপ্রোচ করেছে। এবং প্যানেলের চারজন মোটা দাগে ইন্টারিম (নাবিলা), বিএনপি (ড. আলিয়ার), জামায়াত (সাদিক), এনসিপি (হাসনাত)-এর বিষয়ে কথা বলেছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘লিটারেলি এমন লাইন লিখেছে: “All aspects of the event, including planning, approval, speaker liaison, logistics, promotion, and delivery, were managed internally by members and officers of the Oxford Union.” বললাম না, ধরণি দ্বিধা হও ফিলিংস প্রবলভাবে এসেছে।’
‘বিভিন্ন আলোচনায় এমন মন্তব্যও দেখেছি যে এটা তো বাংলাদেশীদের ইভেন্ট, অর্থাৎ প্যানেলে সাদা লোক নেই, তাহলে এটার গুরুত্ব কী? জুলাই রেভল্যুশন সম্পর্কে বলতে সাদা মানুষ কেন লাগবে, আর সাদা মানুষ না থাকলে আলোচনার গুরুত্ব কেন থাকবে না, এটা আমার কাছে বোধগম্য না। সাদারা আমাদের নিয়ে আলোচনা করবে, আর আমরা শ্রোতা হিসেবে খালি মশা মারব, ওই দিন শেষ। আমরা আমাদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারি। যে কোনো ভাষায় আমরা আমাদের কথা অনায়াসেই বলতে পারি। জুলাই সেটাই দেখিয়েছে। নইলে তো পিটার হাসের হাত ধরেই আওয়ামী লীগের পতন হয়ে যেত - আমাদের তৎকালীন বিরোধী দলের অনেকে তো সেই ভরসাতেই অপেক্ষমাণ ছিলেন। …আর আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শান্ত, ওয়াসিমরা ছিল রাস্তায়।’
‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন দেশী প্রতিষ্ঠান না হয়েও এটা বুঝল। কিন্তু আমাদের দেশের রথী-মহারথীরা ফেল মেরে গেল। হীনমন্যতাকে আত্মস্থ করার কী নিদারুণ উদাহরণ। সমস্যাটা আসলে কী হয়েছে জানেন? এমনকি শিক্ষিত মানুষও কেন এরকম অদ্ভুত ইগ্নোরেন্ট আক্রমণ করল?’
‘আমি তো নিজেই কেমব্রিজে পড়েছি। আমি জানি আপনারা খুব ভালো করেই জানেন এই ফোরামগুলোর গুরুত্ব কী। Baldwin–Buckley কেম্ব্রিজ ইউনিয়ন ডিবেট নিয়ে ক্লাসে পড়িনি? শশী থারুরের কলোনিয়ালিজম নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বক্তব্যটাও তো অবশ্যপাঠ্য। ইউনিয়ন নিজেও তারা আসলে কী সংগঠন, সেটা বোঝাতে গিয়ে মিডিয়াকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়েছে: “The Oxford Union has, over its history, hosted and welcomed some of the most significant global figures of the modern era, including Winston Churchill, Queen Elizabeth II, Albert Einstein, Ronald Reagan, Margaret Thatcher, Yasser Arafat, Nelson Mandela, Muhammad Ali, and Stephen Hawking.” এইটাই সমস্যা হয়ে গিয়েছে।’
‘হাসনাত ওর বক্তব্যে বলেছে, 'ও রাজমিস্ত্রির ছেলে। অক্সফোর্ডের ৯০০ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশ থেকে কয়জন রাজমিস্ত্রির ছেলে ওখানে কথা বলেছে? সাদিক বলেছে, ও খাগড়াছড়ির মাদ্রাসায় পড়েছে, ওর বাবা কাপড় ব্যবসায়ী, ইংলিশ ওর থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। তাই ভাষার দুর্বলতা থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে বলেছে।’
‘গোটা হাউস এ কথাগুলোকে খুব পজিটিভলি নিয়েছে। হাসনাত বলার পর তুমুল করতালিতে ফেটে পড়েছে। সাদিক বলার পর করতালির সঙ্গে দেখি পেছন থেকে কে যেন বলছে বাংলায় বলতে। যদিও ও ইংলিশেই কন্টিনিউ করেছে।
গত অর্ধশতক ধরে এসব স্পেস এলিট-কন্ট্রোলড ছিল। জুলাইয়ের কারণে হঠাৎ কিছু যবন ঢুকে পড়েছে ব্রাহ্মণের চারণভূমিতে। এইখানেই চুলকানি।’
‘ইউনিয়নে বক্তব্য দেওয়াটা প্রবলেম না। তাঁরা যদি দিতেন, এমনকি জুলাইয়ের পক্ষেও বলতেন, তবুও কেউ চিল্লাতো না। সমস্যা হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল ক্লাসে। "তাঁরা" চোস্ত ইংরেজিতে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন, আর্ট-কালচার সংজ্ঞায়িত করবেন। আমরা তা “নমঃ নমঃ” বলে গ্রহণ করব।’
‘কিন্তু একি! খাগড়াছড়ির মাদ্রাসার ছেলে আর কুমিল্লার রাজমিস্ত্রির ছেলে নিজেরাই দেখি পটর পটর কথা কয়। The problem isn’t “can the subaltern speak?” It is: ইন্নালিল্লাহ, the subaltern is speaking. তাই নির্লজ্জের মতো অক্সফোর্ড ইউনিয়নের পরিচয়ই পরিবর্তন করে দিতে হবে!
এবং সেই ডাহা মিথ্যেটা শিক্ষিত মানুষও দলে দলে বিশ্বাস করবে কারণ বিশ্বাস করাটা ইজ ইজিয়ার দ্যান ফেসিং দ্য রিয়ালিটি অফ জুলাই বিপ্লব।’