যুবদল নেতা পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর করে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ
রাজধানীর পল্টনে যুবদলের নেতা পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি, মারধর এবং জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ জুন) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সিবি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. নাইম হোসেন পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
অভিযুক্ত নেতা পল্টন থানা যুবদলের থানার সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল মৃধা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. নাইম হোসেন জানান, এলাকার কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তার কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ৬ জুন খলিল মৃধা নামের এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে অফিসের নিচে আসতে বলেন। সে সময় খলিল নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তিনি ও তার ম্যানেজার অফিসের দ্বিতীয় তলায় একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের কক্ষে যান।
নাইমের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাদের ঘিরে ধরেন। তারা সবাই নিজেদের যুবদলের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার ম্যানেজারকে মারধর করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাদের আল রাজি কমপ্লেক্সের সামনের একটি ভবনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয় এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জোরপূর্বক বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব নম্বরে অনলাইনের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা স্থানান্তর করে নেওয়া হয়। এছাড়া তিনটি ফাঁকা চেক এবং তিন পাতার অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাইম হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই তিনি পল্টন থানাকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে ১২ জুন এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, আটকে রাখার সময় অভিযুক্তদের অনেককে বলতে শোনা যায় যে পল্টন থেকে মতিঝিল এলাকার সবকিছু তারাই নিয়ন্ত্রণ করে এবং পল্টনে ব্যবসা করতে হলে খলিল মৃধার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলতে হবে। এ সময় শাহাদাত কবির নামের একজন নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্ঠজন ও আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। নাইমের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহাদাত কবির বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত।
মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, মামলার এজাহার থেকে ‘যুবদল’ শব্দটি বাদ দেওয়ার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুবদলের নাম উল্লেখ না করেই মামলা দায়ের করেন। তার দাবি, ঘটনার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
নাইম হোসেন আরও অভিযোগ করেন, খলিল মৃধা আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও একইভাবে চাঁদা আদায় করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা খলিল মৃধা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয় এবং ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিতও ছিলাম না। আমি ওনার নামও জানি না, তার নামও জানি না। আমি শুধু এতটুকু বলেছি যে, বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে বসে সমাধান করা উচিত। ঝগড়া-বিবাদ না করে অফিসে বসে ঝামেলাটা মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলাম। এরপর আমি সেখান থেকে চলে আসি এবং প্রেস ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিই।’
ঘটনার পর কী ঘটেছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর কী হয়েছে, না হয়েছে, সেটা আমি জানি না। পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোন পেয়ে শুনেছি যে চায়ের দোকানের সামনে কোনো একটি ঘটনা ঘটেছে। এরপর অন্যরা গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে।’
নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করি। আমি যুবদলের থানার সাংগঠনিক সম্পাদক। এখানে অনেক বছর ধরে রাজনীতি করার কারণে এলাকার মানুষ আমাকে চেনে। সম্ভবত সে কারণেই আমার নাম এসেছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে যারা ছিল, তাদের অনেকের নাম অভিযোগকারীরা জানতেন না বা চিনতেন না। এজন্য হয়তো তাদের নাম আসেনি, আমার নাম এসেছে।’
ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় কী হয়েছে, না হয়েছে, কার নাম এসেছে, টাকা নেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই। যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
এ বিষয়ে পল্টন থানার কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী যাতে ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যেই পুলিশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।