১৬ জুন ২০২৬, ২০:৪৪

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে ১১ দলীয় জোটের ‘না’

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান  © সংগৃহীত

সরকারের দেওয়া প্রস্তাবকে না করে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। জামায়াত আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধানের সংস্কার, সংশোধন নয়। আর এই সংস্কারের লক্ষ্যেই দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই সংশোধন নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো কমিটি গঠন করা হলে তখন তাঁরা অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদের লবিং অ্যান্ড ডাইনিং (এলডি) হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই, কারণ সংশোধন একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। কমিটির প্রয়োজন মূলত সংবিধান আমূল সংস্কারের জন্য। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় যদি সংসদে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে তা রাজপথেই মীমাংসা হবে বলে সরকারকে সতর্ক করেন তিনি। 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সংস্কার জনগণের দাবি। আমরা জনগণের এই দাবি ছেড়ে দেব না, ছেড়ে দেওয়ার কোনো অধিকারও আমাদের নেই।’

বর্তমান সংসদ ‘সরকার ও বিরোধীদলের মিলমিশের সংসদ’ কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সমর্থন দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সমালোচনা করাই একটি কার্যকর সংসদীয় বিরোধী দলের মূল দায়িত্ব। সংসদের ভেতরে আমরা এমন কোনো আচরণ করব না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়। জনগণ আমাদের সংসদে পাঠিয়েছে তাঁদের কথা বলার জন্য।’

তিনি আরও যোগ করেন, কোনো ইস্যুতে তাঁদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা না করে নাকচ করা হলে তাঁরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করবেন, তবে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য হবে না। তারা ‘খুব গরম’ কোনো বিরোধী দল নন, বরং দেশের স্বার্থে কাজ করতে একটি যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও পুশইন ইস্যু নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সীমান্তে পুশইন নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দল থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশদাতা সংসদ সদস্যকে ডেকে নিয়ে বলা হয়, এটি খুব স্পর্শকাতর ইস্যু, তাই নোটিশ প্রত্যাহার করুন। আমাদের এমপি নোটিশ প্রত্যাহার করেননি। কারণ স্পর্শকাতর ইস্যু বলেই তো দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াত আলোচনা করতে চেয়েছিল। অথচ আলোচনার জন্য বিরোধী দল প্রস্তুত থাকার পরও তা কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়!’

সংসদে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা নিয়ে। এছাড়া দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং পুঁজিবাজারের ধস নিয়ে তাঁরা জনস্বার্থে কথা বলেছেন। প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দল অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা করলেও তা দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রবাসীদের কোনো সংকটের সমাধান হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদ অধিবেশন পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শফিকুর রহমান জানান, সংসদের প্রতি মিনিটের কার্যক্রম পরিচালনায় ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয়। তাই তিনি স্পিকারকে অনুরোধ করেছেন যেন সংসদে ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, দলীয় চরিত্রহনন কিংবা কারও অযথা মনোরঞ্জন ও প্রশংসা করার পেছনে সময় নষ্ট না করা হয়। কারও প্রশংসা করতে আমরা আসিনি, আমরা এসেছি জনগণের পক্ষে কথা বলতে।’

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।