জীর্ণ দেয়ালের লিখন কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ: ডা. জুবাইদা রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, আমার আজ মনে পরছে ইন্দুরকানি পিরোজপুর ৫৪ নং সাউথ খালি বিদ্যালয়ের জীর্ণ সাদা দেয়ালে লাল রঙে লেখা জীবনের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেটি আমাদের সকলকে চিহ্নিত করবে, চিন্তিত করবে হয়তো জীবন সম্পর্কে আরো ভাবতে শিখাবে। দেয়ালে লেখা আছে মানুষ কখন কখনো ব্যর্থ হয় না, হয় সে জিতবে না হলে সে শিখবে। জীর্ণ দেয়ালের লিখন কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। এরকম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালযয়ে লেখা আছে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাণী।
রবিবার (১৪জুন) বিকেলে তেজগাঁওয়ের বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে ‘স্টার্ট-আপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আইকুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুরুঙ্গামারি, কুড়িগ্রাম, মাথার উপরে কখন ছাদ ভেঙ্গে পড়ে এরকম বিধ্বস্ত অবকাঠামোতে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। তাদের চেষ্টা সফল হবে। হোক সে বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের মিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’
তিনি বলেন, ‘সবকটি দেয়ালের প্লাস্টার উঠে যাওয়া ৪৭ নং গড়চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলা আলমডাঙ্গা, জেলা চুয়াডাঙ্গা, বিগত বছরগুলিতে অবহেলায় অবকাঠামোর বেহাল অবস্থা অনেক স্কুলে। বহু স্কুলের এই বিধ্বস্ত অবস্থা কয়েকটির নাম যদি তুলে ধরি, দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার তেঘরা মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মুন্সিগঞ্জ সদর, নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবিগঞ্জ সদর, বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কক্সবাজার পৌরসভা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নেয়া থামায়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ কষ্টের মাঝেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে আরো আত্মবিশ্বাসী, আরো মনোযোগী। হয়তো তাদের মধ্যেই কেউ হবে বাংলাদেশের নাম বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল করা ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী।’
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাতে চাই আয়োজকবৃন্দকে যারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত দেশব্যাপী প্রতিযোগিতা স্টার্টআপ সাইন্স প্রজেক্ট এন্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং ঢাকা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। ঢাকা জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দকে জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন। এই প্রজেক্টগুলি প্রস্তুত করতে সকলে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সেইজন্য প্রজেক্টগুলি হয়েছে অত্যন্ত সুন্দর ও সময় উপযোগী।’
তিনি বলেন, ‘অতীব প্রশংসনীয় এই শ্রম ও মেধার বিকাশ। ভবিষ্যতে সব শিক্ষার্থীদের জন্য রইল শুভকামনা। অসাধারণ সাফল্য যেন তোমাদের জীবনকে আলোকিত করে। সেই আলোর ছটায় আগামী বাংলাদেশ যেন বিশ্বে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত প্রতীয়মান হয়, ইনশাআল্লাহ।’
জুবাইদা বলেন, ‘ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে শিক্ষার অধিকার রাখে। শিক্ষার সুযোগকে অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলে প্রতিভা অন্বেষণ ও উপযুক্ত সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ করা যাবে ইনশা-আল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা), ষষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষার্থীদের দলগত কাজ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন, পার্সোনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে উপস্থাপন করা যেতে পারে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন প্রমুখ।