মিঠু খানকে ঘিরে বদলে যেতে পারে সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনের ভোটের সমীকরণ
সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণার পর নতুন ভোটের সমীকরণে বিএনপির সম্ভাব্য মুখ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠুর নাম। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেতাকর্মীদের মতে, তার প্রার্থিতা নির্বাচনের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুন্দরবনঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরাকে ভোটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে সেই শক্তির জানান দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর পৌরসভা নির্বাচনেও জামায়াত এখন চরম আত্মবিশ্বাসী এবং তারা ইতোমধ্যে একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াত নেতা মো. ওমর ফারুকের নাম সামনে এনেছে।
ঠিক এই জায়গায় বিএনপির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আগের দুটি পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির তাসকিন আহমেদ চিশতি। তবে এবার জামায়াতের একক প্রার্থী থাকায় সেই সুযোগ তিনি বা বিএনপির অন্য কেউ পাবেন না। এই নতুন সমীকরণে জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন প্রার্থীর নিজস্ব ক্লিন ইমেজ এবং বিশাল ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক। আর এসব দিক বিবেচনায় সবদিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন নাসিম ফারুক খান মিঠু। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ধারণা। বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি যদি নাসিম ফারুক খান মিঠুকে দলীয় মনোনয়ন দেয়, তবে তিনি সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়াতে পারেন।
দলের ভেতরে নাসিম ফারুক খান মিঠুর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রার্থিতার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে আর জোটের ওপর নির্ভর করে বৈতরণী পার হওয়ার সুযোগ নেই। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলের দুঃসময়ে নাসিম ফারুক খান মিঠু ভাই যেভাবে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তৃণমূল ভোলেনি। তিনি শুধু দলের ত্যাগী নেতাই নন, একজন সফল ব্যবসায়ী সংগঠক হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে তার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। জামায়াতের এই শক্ত ঘাঁটিতে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করতে হলে মিঠু ভাইয়ের মতো পরিচ্ছন্ন ও সর্বজনগ্রাহ্য প্রার্থীর কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা তাকেই মেয়র পদে দেখতে চায়।
গত দুটি পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন নাসিম ফারুক খান মিঠু। উভয়বারই তিনি অত্যন্ত অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের একক প্রার্থী চিশতি থাকা সত্ত্বেও মিঠু নিজের জনপ্রিয়তায় বিপুল ভোট টেনেছিলেন। এবার জোট না থাকায় সেই ব্যক্তিগত ভোটব্যাংকই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। এ অবস্থায় বিএনপির ভোটব্যাংক একদিকে এবং জামায়াতের ভোট অন্যদিকে ভাগ হলে বিএনপির জন্য একজন সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্য প্রার্থী প্রয়োজন হবে, আর সেই জায়গায় মিঠুর নামই সবচেয়ে জোরালো।
বর্তমানে সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাসিম ফারুক খান মিঠু। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী সমাজের সফল নেতৃত্ব দিয়ে শহরে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন তিনি। এছাড়া করোনাকালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় সাড়ে তিন হাজার অসহায় পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তার অবদান সর্বজনবিদিত।
সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতির নাম আলোচনায় থাকলেও, জামায়াতের আলাদা প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণায় তার একক আধিপত্য সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে চারটি সংসদীয় আসনে জিতে ফুরফুরে মেজাজে থাকা জামায়াত তাদের প্রার্থী ওমর ফারুককে নিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের সমীকরণে নাসিম ফারুক খান মিঠুই পারেন বিএনপির জন্য সেরা বিকল্প হতে।
নিজের প্রার্থিতা ও জনসেবা প্রসঙ্গে নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। মুখের কথায় নয়, কাজে করে দেখাতে চাই। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও পৌরবাসী অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমি সাতক্ষীরার সন্তান, মানুষের সঙ্গে থেকে তাদের জন্য কাজ করতে চাই। তবে নির্বাচনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দল। নির্বাচন বড় বিষয় নয়, মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় অর্জন আমার কাছে আর কিছু নেই।’
বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মতে, যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত নাসিম ফারুক খান মিঠুকে দলীয় মনোনয়ন দেয় এবং তিনি দলীয় ভোটের পাশাপাশি নির্দলীয় ও অন্যান্য সমর্থকদের ভোট আকর্ষণ করতে পারেন, তাহলে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র পদে তিনি শুধু শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীই নন, সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারেন।