০৮ জুন ২০২৬, ১৯:০৫

মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণী রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: যুবদল সভাপতি

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে হোটেল ভিক্টোরিতে যুবদলের সভা  © সংগৃহীত

কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর গেল ৪ জুন বৃহস্পতিবার ১৫১ সদস্যর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়েছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো কমিটির নেতাদের মতবিনিময় সভা করছে সংগঠনটি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে হোটেল ভিক্টোরিতে এই সভা আজ সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে। 

সংগঠনের প্রথম সভায় যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘বাংলাদেশে মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণী রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তিনি বলেন, চতুর কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। মবসন্ত্রাস করে পজিশন নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ ভালোভাবে নেবে না। আপনারা রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলুন, সাংগঠনিক কাজ করুন। বেফাঁস বক্তব্য-মন্তব্য থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব দেয়া হয়।’

মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘প্রত্যেক নেতাকর্মীদের রাজপথের ত্যাগ ও সংগ্রামকে আমরা মুল্যায়ন করেছি। আগের কমিটির প্রায় ১১৪ জনকে আমরা এই কমিটিতে রেখেছি। আমরা তাদের রাজপথের লড়াই ও অবদানকে স্বীকার করেছি, বিবেচনায় নিয়েছি। আরও কয়েকজন ত্যাগী নেতাদের আমরা জায়গায় দিতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে আমরা যাচাই বাছাই করে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছি। এরপর যাদের কমিটিতে রাখতে পারেনি, তাদের জন্য চেষ্টা করর। আরও অন্তত ১০০ জনকে কমিটির সংযুক্ত করার চেষ্টা করব। সেখানে হয়তো তাদের মুল্যায়ন করার চেষ্টা করব। সূতরাং কারো হতাশ হওয়ার কারণ নেই।’ 

এক প্রশ্নের উত্তরে মুন্না বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়র দেখে কমিটিতে কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যেকের অবদান দেখা হয়েছে। অতীতে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে যুবদলের নেতাকর্মী সামাজিক কর্মসূচি সেভাবে পালন করতে পারেনি। আগামী বড় পরিসরে পালন করা হবে।
বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন যুবদল সভাপতি।’

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সময় অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং শোকজ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। এসব নেতাকর্মীর অনেকেই আমাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। দলের জন্য তাদের অবদান ছিল, আন্দোলন-সংগ্রামেও ভূমিকা ছিল। তারপরও দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসময় দলের সুনাম নষ্ট করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘আপনাদের যে পদ দেওয়া হয়েছে, তার অপব্যবহার করবেন না। এটি দলের আমানত। এমন কাজ করুন, যাতে যুবদলের সুনাম বৃদ্ধি পায়। যে কাজগুলো যুবদলের দুর্নাম ডেকে আনতে পারে, সেসব কাজ থেকে বিরত থাকুন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে), প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.কামরুজ্জামান জুয়েল; সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন মামুন; মাহবুবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। 

এদিকে, ঘোষিত কমিটিকে পকেট কমিটি ও নেতাদের স্বজনপ্রীতির কমিটি আখ্যা দিয়ে কমিটিতে প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের স্থান হয়নি বলে সংগঠনটির পদ প্রত্যাশী নেতা ও সাবেক ছাত্রদল নেতারা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় যুবদলের প্রথম সভার একই সময়ে পদ বঞ্চিতদের একটি বড় অংশ বিএনপির হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে।