০৮ জুন ২০২৬, ১৭:৫৫

৩ বছর পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পে-স্কেল, অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ইমাম-পুরোহিতদেরও

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সরকারি বেতন কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে এনসিপির ছায়া বাজেটে  © এআই ও টিডিসি সম্পাদিত

২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছর পার হলেও নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে গেছে উল্লেখ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন বেতন সমন্বয়ের প্রস্তাব করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। দলটির ছায়া বাজেট অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর পর স্বয়ংক্রিয় ও বাধ্যতামূলকভাবে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী বেতন হালনাগাদ করা হবে।

এছাড়া এতদিন ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম ভাতা পাওয়া দেশের প্রায় ৬০ হাজার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের বার্ষিক অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি বেতন কাঠামোর ১৬তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটি এ প্রস্তাবনা প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে দলটির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, কমিটির উপপ্রধান আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক সজিব ওয়াহিদ উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপির ছায়া বাজেটে বলা হয়েছে, এনসিপি তিন বছর মেয়াদী বেতন স্কেল হালনাগাদকরণ চক্রকে একটি স্বয়ংক্রিয় আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে প্রণয়ন করবে, যা সরকারের ইচ্ছাধীন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। প্রতি তিন বছর পর পর বেতন কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে গঠিত হবে। এর কার্যপরিধির (টার্মস অব রেফারেন্স) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে— একটি বাধ্যতামূলক কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স সমন্বয়, যা ন্যূনতম মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করবে; সমমানের দক্ষতা স্তরের ভিত্তিতে বেসরকারি খাতের মজুরির সাথে তুলনা; এবং সম্মুখসারির সরকারি কর্মচারী (নার্স, শিক্ষক, পুলিশ কনস্টেবল) যাদের বেতন ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান।

এ ছাড়া বেতন কাঠামোতে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত এবং অন্যান্য ধর্মীয় সেবা প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্তির কথাও বলা হয়েছে। দলটির ছায়া বাজেট বলছে, এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারি ও মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের আনুষ্ঠানিক সরকারি বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই ব্যক্তিবর্গ (সমগ্র বাংলাদেশে আনুমানিক ৬০ হাজার জন) বর্তমানে যে ভাতা পান, তা ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম এবং এটি খামখেয়ালিপূর্ণ পরিবর্তনের অধীন। এনসিপি প্রতি বছর প্রায় ৯০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ে পেনশন এবং স্বাস্থ্য বীমাসহ পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সংশোধিত বেতন স্কেলের ১৬তম গ্রেডে তাদের স্থান দেবে।

অবিলম্বে বেতন সংশোধনের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে এনসিপি বলছে, বাংলাদেশে সর্বশেষ বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে, যা এখন থেকে এগারো বছরেরও বেশি সময় আগে। তারপর থেকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রকৃত অর্থে বেতনের মান আনুমানিক ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।

যেমন— ২০১৫ সালে ১০ম গ্রেডে কর্মরত একজন সরকারি কর্মচারী যিনি প্রতি মাসে ১৬ হাজার টাকা আয় করতেন, বর্তমান বাজারমূল্যের ভিত্তিতে একই জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এখন তার ২৯ হাজার টাকারও বেশি প্রয়োজন হবে। যদিও বর্তমান বাজেটে এককালীন বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে এটি একটি সামগ্রিক বেতন সংশোধনের মাধ্যমে প্রকৃত মজুরির এই কাঠামোগত পতনের সমাধান করে না।

এই ঘাটতি পূরণে এনসিপি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য একটি পূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন বেতন সমন্বয়ের প্রস্তাব করছে, যেখানে ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং সরকারি খাতের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য কমাতে নিম্ন-আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের অধীনে বেতন সমন্বয়ের হার সর্বনিম্ন গ্রেডগুলোর জন্য প্রায় ৩৫ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ গ্রেডগুলোর জন্য প্রায় ৫.১ শতাংশ পর্যন্ত হবে।