০৫ জুন ২০২৬, ২১:৫৩

আ.লীগ ও ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে: এনসিপি

সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার তুষার  © সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ এবং ভারতের স্বার্থের সমন্বয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির স্পোর্টস সেলের সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এসব অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও দলীয় কার্ডের ভিত্তিতে ক্রিকেট পরিচালনার নজির বাংলাদেশে অতীতে ছিল না। আওয়ামী লীগও এ পর্যায়ে যেতে পারেনি। আমরা মনে করি, এই পুরো ঘটনার পেছনে দুটি শক্তি কাজ করছে—একদিকে পতিত আওয়ামী লীগ এবং অন্যদিকে ভারতের প্রভাব। আমাদের অভিযোগ, এই দুই পক্ষের স্বার্থের সমন্বয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কোটি কোটি তরুণের আবেগ ও গর্বের জায়গা ক্রিকেটকে এভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।

তিনি আরও বলেন, তারা বলেছিল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করবে না। এটি ছিল তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, যে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কয়েক বছর লেগেছিল, সেটি মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিএনপি ক্রিকেট অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সবচেয়ে বড় ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর উদাহরণ এখন দেখা যাচ্ছে। অ্যাডহক কমিটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতার তিন সন্তান স্থান পেয়েছেন। তারা নিজেরা নির্বাচন করবেন, আবার সেই নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত থাকবেন। কাউন্সিলর ও বিভাগীয় পরিচালকদের তালিকা দেখলে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ভাই, সন্তান, নাতি কিংবা বিএনপির পদধারী ব্যক্তিরা রয়েছেন। এমনকি সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাও আছেন। এর পাশাপাশি পলাতক আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদেরও জায়গা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি আইসিসির দুই প্রতিনিধির বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি আইসিসির দুই প্রতিনিধি বাংলাদেশে এসেছিলেন। বলা হয়েছিল, তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এসেছেন। কিন্তু তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেননি। বরং বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। একটি প্রশ্ন হচ্ছে, হায়দরাবাদে আইসিসির সভায় বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান কেন আমন্ত্রণ পাননি? যদি বর্তমান কমিটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হতো, তাহলে এর প্রধানকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হতো। এটি প্রমাণ করে যে বর্তমান ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।