০৪ জুন ২০২৬, ১৬:২৬

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

আনোয়ার হোসেন  © সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার এক এনসিপি নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর এক আসামিকে পাসপোর্ট জমা দেওয়া শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক এ নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আনোয়ার হোসেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ও রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। মামলার অপর আসামি তার ভাই এনসিপিকর্মী ইমাম হোসেন। এছাড়া মামলার বাদী রুহুল আমিন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চরবগা গ্রামের শফিক আহম্মদের ছেলে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এতে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি আনোয়ারকে জেলগেটে একদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অপর আসামিকে পাসপোর্ট জমা দেওয়া শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে আনোয়ার ফেসবুক আইডিতে প্রচার করে। তার ফেসবুক আইডিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে তা পায়ের তলায় দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঈদ উপলক্ষে আনোয়ার তার রায়পুরের সোনাপুর এলাকার গ্রামের বাড়িতে আসেন। ৩০ মে রাতে ফেসবুকে প্রচারিত কুরুচিপূর্ণ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে আনোয়ারসহ অভিযুক্তরা যুবদল নেতা রুহুল আমিনসহ সাক্ষীদের ওপর হামলা করে।

একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ওই রাতেই স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরদিন ৩১ মে দুপুরে রুহুল আমিন বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা ও দণ্ডবিধি আইনে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে আনোয়ারসহ তার তিন ভাইয়ের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয়ে ৪ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনার সময় আনোয়ারের ঘরে হামলা, ভাঙচুর করা হয়।