০২ জুন ২০২৬, ১৭:২১

মা-বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তোফায়েল আহমেদ

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজা  © টিডিসি ফটো

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।

জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এ প্রবীণ রাজনীতিবিদকে। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিন দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হয়। পরে ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ নেওয়া হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। মরদেহবাহী হেলিকপ্টার পৌঁছানোর আগেই হেলিপ্যাড এলাকায় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।

ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজার নামাজে ইমামতি করেন খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। জানাজা শেষে মরদেহ নিজ গ্রাম কোড়ালিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে তৃতীয় ও শেষ জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল ১ জুন বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তোফায়েল আহমেদ মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি দেশের অন্যতম প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একইদিন রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির মসজিদ-উত-তাকওয়ায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদান স্মরণ করে বিভিন্ন মহল গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেছে।