জার্মানিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জার্মানি শাখার উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের সালবাউ গ্রিসহাইম অডিটোরিয়ামে স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জার্মান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজার উপস্থাপনায় বক্তারা শহীদ জিয়ার জীবনের উপর আলোকপাত করেন।
তারা বলেন, ‘দেশ ও জনগণের কল্যাণে জিয়াউর রহমান তার জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন। দেশ ও জাতির দুর্দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা দায়িত্ব তার ওপর় অর্পিত হলে তিনি দক্ষতার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করে বিশ্বের দরবারে আমাদের একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা, শ্রমশক্তি এবং তৈরী পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক আয়ের পথ সুগম করেছিলেন।’
বক্তারা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে। আর দেশ ও জাতির দুর্দিনে, দেশের মানুষের দায়িত্ব এসে পড়েছে শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাদের উত্তরসূরি তারেক রহমানের উপর। শহীদ জিয়া বুকের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই গণতন্ত্র কেড়ে নিয়েছিল অত্যন্ত ক্ষমতালোভী শেখ হাসিনা, কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি। গণতন্ত্রকামী ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন আগষ্ট চব্বিশে। নির্যাতিত নিস্পেষিত গণতন্ত্র প্রিয় বাংলাদেশের জনগণ আজ এক অদম্য শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দৃঢ় প্রত্যয় বুকে নিয়ে।’
তারা আরও বলেন, ‘আওয়ামী গণহত্যাকারী লুটেরা গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে জাতীয় স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে দেশকে এক অজানা গন্তব্যে ঠেলে দিয়ে পালিয়ে গেছে। তারা দেশের প্রতিটি সেক্টরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছেন, এমনকি এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে শহীদ জিয়ার দল এবং তার সন্তান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনমনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তাদের অশান্তি এবং হতাশা কেটে গেছে। গণতন্ত্রের পদযাত্রা, মানবিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে শহীদ জিয়ার দল-বিএনপি। জনগনের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার নির্বিঘ্ন করেছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করে চলেছে।’
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ফিরোজ কোরাইশী, মোজাম্মেল হক, সেলিম ব্যাপারী চঞ্চল, আনিসুর রহমান শামীম, জুয়েল খান, শাখাওয়াত হোসেন সোহাগ, মঞ্জুর সরকার, মো. কাওসার শামীম, নিয়াজ হাবিব, আসিফ ইকবাল ভূঁইয়া , হায়াতুননবী রুমেল, ফয়সাল আহমেদ, আল আমিন রিয়াজ প্রমুখ।