কোরবানির উপহার নিয়ে জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে এনসিপির সংসদ সদস্য
নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ২৪ জনের পরিবারে কুরবানির জন্য একটি করে খাসি উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
নারায়ণগঞ্জ এনসিপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় বছরের মতো এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলেন এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে এনসিপির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান ও রাজনৈতিক পর্ষদের (পিসি) সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, গতবছর রোজার ঈদে ফতুল্লার শহীদ মাবরুর হাসান রাব্বির পরিবারে গিয়েছিলাম। ১৯ বছর বয়সী রাব্বি তার গোষ্ঠীর একমাত্র ছেলে সন্তান ছিলেন। আন্টি বলতেছিলেন, গতবছর আমরা কুরবানি দিতে পারি নাই। রাব্বি বলছিল, "মা! চিন্তা কইরো না। আগামী বছর আমি ইনকাম করে তোমাকে কুরাবানি দেয়াব।"
অথচ আমার ছেলেই দেশের জন্য কুরবান হয়ে গেল... এটা শোনার পরে আমার মনে হইলো, এই শহীদের স্বপ্নটা পুরন করতে হবে। ওর মায়ের হয়ে আমরা কুরবানী দিবো। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের সব শহীদের পক্ষেই কুরবানি করব। এরপর হিসাব করে দেখলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৬০ জন শহীদ হলেও নারায়ণগঞ্জে থাকে ২২টি শহীদ পরিবার। আমরা ২২ জন শহীদের পক্ষেই কুরবানি করার নিয়ত করলাম। নিজেদের নেতাকর্মীদের অনুদান এবং ভাই-ব্রাদারের সহায়তা নিয়ে ২২টি খাসী কিনলাম এবং শহীদের পক্ষে কুরবানি দিতে সব পরিবারে একটি করে খাসি পৌছে দিলাম।
সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, সন্তানহারা শহীদের বাবা-মায়েরা এবং পিতা-মাতা হারা শহীদদের সন্তানেরা এই ঘটনায় এতটা আপ্লূত হয়েছিলেন যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরাও তাদের সাথে শরিক হয়ে গর্বিত হয়েছিলাম। এবার আমরা ২৪টি শহীদের পরিবারকে রিচ করতে পেরেছি যারা নারায়ণগঞ্জে আছেন।
এবারও প্রত্যেক শহীদের পরিবারের জন্য একটি করে খাসি কিনেছি, সব পরিবারে পৌঁছে দিচ্ছি। ছোট ছোট টিম করে আমিসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের সব থানায় সব শহীদের পরিবারে সন্ধ্যার মধ্যে পৌছে দিব। পুরো প্রক্রিয়ায় যারা আর্থিক এবং শারীরিকভাবে সম্পৃক্ত হয়ে এই উদ্যোগকে সফল করেছেন, তাদের প্রতি অসম্ভব কৃতজ্ঞতা। ইনশাআল্লাহ, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাব আমরা।