ভাইরাল হওয়া সেই যুবকের হাতে অস্ত্র নাকি আগ্নেয়াস্ত্র? যা জানা গেল
আজ শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃত্বে হামলার সময় এক যুবককে ‘অস্ত্র’ হাতে দেখা গেছে। এমন একটি ভিডিও এবং একাধিক ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওই যুবকের পরিচয় ও হাতে অস্ত্র না আগ্নেয়াস্ত্র ছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক দুই বা তিনজনকে মারধর করছেন। এরমধ্যে আকাশি রঙের গেঞ্জি পরিহিত এক যুবক গেঞ্জির ভিতর থেকে কালো রঙের অস্ত্র সদৃশ্য কিছু বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পাঞ্জাবি পরিহিত অপর এক যুবক তাকে সেটি বের করতে বাঁধা দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মনে করছেন, ওই যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। আবার অনেক মতে ওই যুবকের হাতে ছিল সেইফটি স্টিক। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে দাবি করেছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে থাকা সন্ত্রাসীরা সাধারণ জনতাকে উদ্দেশ্য করে গুলি করার চেষ্টা করে এবং অস্ত্রধারী দুইজন শিবিরের।
এদিকে ছাত্র শিবিরের মিডিয়া উইং থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, হামলা চলাকালীন ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, ছাত্রদলের কেসি কলেজ ও সিটি কলেজের পদধারী নেতা আরাফাত, আলিফসহ অন্যান্যরা সরাসরি এই হামলায় অংশগ্রহণ করে। নিজেদের এই সন্ত্রাসী হামলাকে আড়াল করতে কোনপ্রকার তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছেন স্বয়ং ছাত্রদল সেক্রেটারি। এদিকে তাঁর পোস্টের সূত্র ধরে দ্য ডেইলি ডাকসুসহ ছাত্রদল কর্তৃক পরিচালিত এমন অসংখ্য ভুয়া পেইজ থেকে এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এনসিপির পক্ষ থেকে তাদের দুইজনের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঞ্জাবি পড়া ওই যুবক হলেন, সিয়াম উদ্দিন তুর্য। আর আকাশী রঙের গেঞ্জি পড়া যুবকের নাম, মোহাম্মদ আশিক বিশ্বাস। তার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝিনাইদহ জেলার আহ্বায়ক সাইদুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, তারা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদধারী তারা।
এদিকে এনসিপির মিডিয়া গ্রুপে ভিডিও বার্তায় পাঞ্জাবি পরিহিত যুবক তুর্য বলেন, আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলে অবশ্যই বুঝতে পারবেন যে যে কালো ব্যাগের ভিতরে একটা বড় সরু একটা বস্তু ছিল। কিন্তু এত বড় কোন গান (আগ্নেয়াস্ত্র) হয় না। এটা সেইফটি লাঠি ছিল। চাইনিজ সেফটি লাঠি।
আর আশিক এক অডিও বার্তায় বলেন, আমার নাম মোহাম্মদ আশিক বিশ্বাস। আজকে সারাদিন আমার হাতে যেই বস্তুটা দেখছেন সেটা কোন অস্ত্র ছিল না। সেটা ছিল একটা সেফটি স্টিক। এটা দিয়ে ছাত্রদল নাসিরউদ্দিন পাটোরী ভাইয়ের উপর আক্রমণ করে এবং সেটা আমি ছিনিয়ে নিয়ে আমার কাছে রেখে দিই, এটা বলছে পিস্তল ছিল। কিন্তু এটা কোন পিস্তল ছিল না। আমরা স্টিকটা থানায় হস্তান্তর করেছি।