২২ মে ২০২৬, ১৭:৪৪

নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির বিক্ষোভ

রাজধানীতে-এনসিপির-তাৎক্ষণিক-বিক্ষোভ  © সংগৃহীত

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীরর ওপর ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় রাজধানী ঢাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। 

আজ শুক্রবার (২২ মে)  বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে এসে জড় হন তারা। সেখানে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্য সচিব শাহরিন ইরাসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

বিক্ষোভ সমাবেশে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় আওয়ামী লীগ যেভাবে গানের প্রোগ্রামে, সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে, ধর্মীয় প্রোগ্রামে হামলা করত, একইভাবে আজকে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাদেরকে নিয়ে কিছু বলা যাবে না। তারা কোনো সমালোচনা নিতে পারবে না। কিন্তু একটা গণতান্ত্রিক দেশে তারা এভাবে রাজনীতি করতে চায়। তাদের অংশকে নিয়ে নাকি বাংলাদেশে কোনো কিছু বলা যাবে না। তাদের নাকি একটা রেডলাইন আছে। সেই রেডলাইন নাকি ক্রস করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাকস্বাধীনতা বলতে বুঝি, এই দেশে যারা দায়িত্বে আছে, যে কাউকে এই দেশের যে কোনো নাগরিক প্রশ্ন করার অধিকার রাখে। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী না, বাংলাদেশের যে কোনো সাধারণ নাগরিক, যে কোনো কৃষক-শ্রমিক আপনাদেরকে প্রশ্ন করার এখতিয়ার রাখে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটাই গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কোনো নাগরিক আপনাদের যে কোনো ব্যর্থতার জন্য আপনাদেরকে প্রশ্ন করতে পারবে।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, পোস্ট শেয়ার করার কারণে, ফেসবুকে পোস্ট লেখার কারণে আপনারা গ্রেফতার করছেন। আমরা এটা করতে দেখতাম আওয়ামী লীগকে। শেখ হাসিনাকে নিয়ে কিছু লিখলেই তারা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে, এছাড়াও নানাভাবে এদেশের নাগরিকদেরকে গ্রেফতার করত, তুলে নিয়ে যেত। আপনারা যদি সেটা চান, আপনারা যদি আবার ফ্যাসিবাদ এবং স্বৈরশাসন কায়েম করুন— সামনে সামনে দেখাবেন যে প্রধানমন্ত্রী হেঁটে যাচ্ছে, এরশাদের মতো সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী গরুর গাড়ি চালাচ্ছে, আর পেছনে পেছনে সহযোগীরা...

এসময় আল্টিমেটাম দিয়ে আসিফ বলেন, আজকে রাতের মধ্যে অস্ত্রধারী হামলাকারী সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে হবে। যদি গ্রেফতার না করা হয়, আমরা আপনাদের এই কার্যক্রমকে, এই হামলাকে এই জেনারেশনের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে মেনে নেব। সামনের দিনে আমাদের সমালোচনা আর বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশের মতো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে থাকবে না। কারণ আপনাদের মতো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কখনো ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় না। সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান। যারা হামলা চালিয়েছে, তাদেরকে গ্রেফতার করুন। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করুন এবং সারাদেশে এই সন্ত্রাসীদেরকে দমন করুন, নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন।