হামলা করে ফোন-মানিব্যাগ নিয়ে গেছে ছাত্রদল, আহত ১৭
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় এনসিপির ১৭ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৩ জন গুরত্বর আহত হয়েছেন। এছাড়াও এনসিপি নেতাকর্মীদের মোবাইল, মানিব্যাগ, ক্যামেরাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২২ মে) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে উদ্দেশ্য করে ন্যাক্কারজনক হামলা চালায় ঝিনাইদহ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের বর্তমান ও সদ্য সাবেক সভাপতি উপস্থিত ছিলেন। হামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাসহ প্রায় সতেরো জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হন। তন্মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারী ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এনসিপি নেতাকর্মীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ও ক্যামেরাও ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্রদলের এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নতুন কিছু নয়। নির্বাচনের পরপর শাহবাগ থানার মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রদল। এখন পর্যন্ত সে হামলার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া, রাঙামাটি সহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্রদলের নিজেদের মধ্যকার অন্তর্কোন্দল জনমনে ব্যাপক ভীতি ও ত্রাসের সঞ্চার করেছে।
এতে আরও বলা হয়, দেশে অব্যাহতভাবে খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি বেড়েই চলেছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অপরাধ দমনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। উপরন্তু, সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও পরিকল্পিত মব তৈরি করে বিরোধী রাজনৈতিক দল-মতকে টার্গেট করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আজকের হামলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সন্ত্রাস দিয়ে মোকাবেলার সরকারি নীতি ও প্রবণতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফ্যাসিবাদী জমানার ন্যায় দলীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আকারে কাজ করতে হবে।