সংঘাত নয়, ছাত্ররাজনীতি হবে জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফর্ম: এ্যানি
ছাত্র রাজনীতিকে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও অপরাজনীতির ধারা থেকে বের করে জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণমুখী ধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত 'সিটিজেন ডায়ালগ: ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন—চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড' শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি সংঘাতের নয়, জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফর্ম হতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্রসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে সময়ের ব্যবধানে কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড ছাত্ররাজনীতিকে বিতর্কিত করেছে। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। নতুন প্রজন্মের রাজনীতি হতে হবে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব।’
পানিসম্পদমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের নদ-নদী ও খাল রক্ষায় সরকার বিভিন্ন পুনরুদ্ধার ও খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু নদী ও খাল দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষিনীতি গ্রহণ জরুরি। নদী রক্ষা আন্দোলনে নাগরিক সমাজ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আসন্ন ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো সংকট নেই। প্রায় ১ কোটি ২ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় খামারিদের সুরক্ষায় সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাগরিক সংলাপে অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারা নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া নদী রক্ষা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করেন। শিল্পবর্জ্য ও অবৈধ দখলের হাত থেকে নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তারা।