‘শায়ান-জয় যেটা বলছে, ওটা ইমিডিয়েটলি করেন’
ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহেনা ও উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ফোনালাপের একটি অডিও সামনে এসেছে। যেখানে সালমানকে দ্রুত সেফ এক্সিট নেওয়ার নির্দেশনা দেন রেহানা। তিনি বলেন, আমরা অন্য জায়গায় আছি, আমরা মানে ববি, টিউলিপ ওকে কনভিন্স করছে তো...। কল না করতে পারলেও আল্লাহ যদি বাঁচাই রাখে কথা হবে। ইউ শুড বি লিভ ইমিডিয়েটলি।
জুলাই অভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল আজ সোমবার (১৮ মে)। এ মামলার আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তাদের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে শেখ রেহানার একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয় ট্রাইব্যুনালে। কথপোকথনের শুরু থেকেই শেখ হাসিনার এই উপদেষ্টাকে সরে যেতে তাড়া দেন শেখ রেহানা। দুই মিনিট ৯ সেকেন্ডের সেই কথোপকথনটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
সালমান: হ্যালো।
কর্নেল রাজিব: সালামালাইকুম স্যার। স্যার কর্নেল রাজিব বলছি স্যার। রেহানা আপা একটু কথা বলতো ওভার টু ওভার স্যার।
সালমান: কে?
কর্নেল রাজিব: রেহানা আপা, রেহানা আপা। জ্বি স্যার।
রেহানা: স্লামালাইকুম ভাইয়া।
সালমান: হ্যাঁ, অলাইকুমল্লাম।
রেহানা: জি আপনি কই?
সালমান: আমি আমার বাসায়।
রেহানা: থাইকেন না।
সালমান: থাকবো না, হ্যাঁ ঠিকাছে।
রেহানা: আমরা অন্য জায়গায় আছি, আমরা মানে ববি, টিউলিপ ওকে কনভিন্স করছে তো... কল না করতে পারলেও আল্লাহ যদি বাঁচাই রাখে কথা হবে।
সালমান: আচ্ছা, তো তোমরা অন্য জায়গায় চলে গেছ? আপাও গেছে?
রেহানা: জি ভাই। তো আপনি...
সালমান: আমরা যদি বাইর হইতে পারি, আমরা বের হয়ে যাবো। আনিসুল হককেই বের করে ফেলি সাথে?
রেহানা: হ্যাঁ, হ্যাঁ, যেটা হয় আপনি ইমিডিয়েটলি ওই যে শায়ান আর জয় যেটা বলছে আপনি ওইটা করেন।
সালমান: ঠিকাছে, ঠিকাছে। ওকে।
রেহানা: এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না। কারণ সম্পার বাসায় গেছে ফটো তুলছে এবং চারদিকে মানে সাদা জোব্বা পরা দাড়িওয়ালা এই আরকি। ইউ শুড বি (you should be) মানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর আমি কনভিন্স করতেছি যে, মানে যা আছে ঐটা করবো আরকি। এখানে একদম থাকা সেইফ না।
সালমান: আচ্ছা ঠিকাছে তাহলে ও কি বলবে মার্শাল ‘ল’ ডিক্লার করতেছে না সে?
রেহানা: ওইগুলো এখন বাদ দেন, ইউ শুড বি লিভ ইমিডিয়েটলি (you should be leave emediatly.)
সালমান: ওকে।
রেহানা: জ্বি ভাইয়া ফি-আমানিল্লাহ দোয়া করবেন।
সালমান: ফি আমানিল্লাহ।
রেহানা: স্লালামালাইকুম।
সালমান: অলাইকুমস্লাম।
নিজের এই কথপোকথনটি বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা যায় সালমান এফ রহমানকে। যদিও ঠিক আগেই কাঠগড়ায় বসে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সুলতান মাহমুদ, মামুনুর রশিদ, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা।
এদিকে, আতিকুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও জেরার জন্য সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। পরে আগামী ৮ জুন দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।