সরকারের কার্ডগুলো ব্যর্থ হলে আমরা লাল কার্ড চালু করব: নাসীরুদ্দীন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আগে শেখ হাসিনা স্মার্ট কার্ড বিক্রি করেছিল এবং সেটার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। নগর থেকে শুরু করে এটুআই প্রজেক্ট পর্যন্ত সেসব হয়েছে। এখন আবার নতুন নতুন প্রকল্প এসেছে—ফার্মার্স কার্ড, হেলথ কার্ড। অনেক কার্ড এসেছে। আমরাও নতুন একটি কার্ড চালু করব, সেটার নাম ‘লাল কার্ড’। যখন এই কার্ডগুলো ব্যর্থ হবে, তখন আমরা লাল কার্ড চালু করব।
আজ বুধবার (১৩ মে) এনসিপির কৃষি সেলের আয়োজনে এক সেমিনারের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কৃষি ব্যবস্থার কথা চিন্তা করেই মাওলানা ভাসানী তার দলের প্রতীক হিসেবে ধানের শীষ রেখেছিলেন। অবশ্য সেই মার্কা চুরি হয়ে গিয়েছিল। মাওলানা ভাসানী এখন শুধু নামে আছেন, মার্কাটা চলে গেছে। অথচ মাওলানা ভাসানী বাংলাদেশে কৃষকনির্ভর রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। যদি সেই মার্কাটা তার কাছে থাকত, তাহলে আজ ধান পানির নিচে তলিয়ে যেত না।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন যদি আমি আপনাদের প্রশ্ন করি, বাংলাদেশের হাওরে ধান কোথায় গেছে? কারণ সেটা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অবশ্য ধানের মার্কা ক্ষমতায় আছে, কিন্তু বাস্তবের ধান পানির নিচে। কৃষকরা সারাদিন ধান চাষ করে। কিন্তু সেই ধান এখন ব্যবহারের একটি রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। যে ধানকে রক্ষা করার কথা ছিল, সেই ধানের মার্কা বগুড়া থেকে ছেড়ে গুলশানে চলে গেছে। ফলে এখন ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের হাতে ধান চলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বের জায়গায় প্রধানমন্ত্রী। অথচ বগুড়ার যে সন্তান অবহমানকাল থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকপালের সূচনা করেছিলেন, সেই বগুড়াকে ছেড়ে চলে গেছেন। অর্থাৎ গ্রামবাংলা আর ভালো লাগে না। এখন গুলশানের ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট এবং হাওয়া ভবনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা লোকদের কাছে ধান চলে গেছে। এটাই বর্তমান রাজনীতি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, কর্মসংস্থানের জায়গা থেকে দেখলে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ কৃষি খাতে নিয়োজিত। ফলে এই খাত অস্থিতিশীল হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি কর্মসংস্থানেও বড় ধাক্কা নামবে। আমরা যদি সেক্টরভিত্তিক কথা বলি, গালফ কান্ট্রিগুলোতে ইতোমধ্যে ধাক্কা লেগেছে। সেখানে প্রতিদিন বোমা পড়ছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত গার্মেন্টস খাতেও অস্থিতিশীলতা চলছে। অনেক ব্যবসায়ী ফোন দিয়ে বলছেন—বিদ্যুৎ পাচ্ছি না, গ্যাস পাচ্ছি না, ইনভেস্টমেন্ট লস হয়ে যাচ্ছে। এরপর আমাদের কৃষি খাত। যদি এই খাত অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ফুড ক্রাইসিস হলে সরকার কীভাবে সেটা মোকাবিলা করবে? আমরা বড় বড় কথা না শুনে সরকারের কাছে অ্যাকশন প্ল্যান চাই।