শাপলায় গণহত্যা ঠেকানো গেলে জুলাইয়ে গণহত্যা হতো না: নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি শাপলা গণহত্যাকে সেই সময় আমরা ঠেকিয়ে দিতে পারতাম। সেই সময় যদি যারা এটার জন্য দায়ী সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক এলিমেন্ট তাদেরকে যদি বিচারের আওতায় আমরা আনতে পারতাম, তার বিরুদ্ধে যদি সামগ্রিকভাবে সমাজের এবং সকল পক্ষ আমরা দাঁড়াতে পারতাম তাহলে কিন্তু জুলাই গণহত্যা হতো না।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স আয়োজিত 'শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শাপলা গণহত্যাকে কোন না কোন ভাবে তো বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তার প্রেক্ষাপট তৈরি করতে অনেকেই ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেই সময় সরকারকে জবাবদিহিতা করতে পারা যায়নি বলে সরকার জুলাইতে আরেকটা গণহত্যা করার সাহস পেয়েছিল।
তিনি বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলো ডাইমেনশন আছে। এক যুগ চলে গিয়েছে বিচারহীনতার। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে এসে আমরা এটা বিচারের দাবি জানাচ্ছি, এটা কিন্তু ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের দাবি না, এটা এনসিপির দাবি না, এটা বাংলাদেশের জনগণের দাবি।
এনসিপি'র আহ্বায়ক বলেন, আমাদের ভাই বন্ধু আমাদের আত্মীয়-স্বজনরাই তো মাদ্রাসায় পড়ে। আমরা কেউ স্কুল কলেজে পড়েছি। আমার ভাই বোনেরা কেউ মাদ্রাসায় পড়েছে। এই যে তাদেরকে আলাদা করে দেওয়ার একটা রাজনীতি সমাজকে বিভাজিত করে দেওয়া হয়েছে। এই রাজনীতির মাধ্যমে এটার একটা রূপ আমরা দেখেছি ২০১৩ সালে শাপলা এবং শাহবাগের মধ্য দিয়ে এবং এর ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে সেই সময় ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার সরকার।
২০১৩ সালে শাপলা গণহত্যা বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তখন হেফাজতের সাথে বিএনপি ছিল। অবশ্যই সাথে ছিলেন। কিন্তু বিএনপির ভূমিকা আসলে কি রকম ছিল আসলে এই সময়ে এসে বিশ্লেষণের দাবি রাখে। দেশের জনগণের একটা বড় অংশ যখন বিপদগ্রস্ত। এরকম একটা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব নেওয়া আরো বোল্ড ভূমিকা রাখ।
কাঁটা তার দিয়ে কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায় না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি যে আমাদের সীমান্তে আবারো হত্যাকাণ্ড হচ্ছে এবং সীমান্তে আবারো নতুন করে কাঁটাতার দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে এবং সীমান্তে আমার দেশের জনগণকে হত্যা করে কেউ যদি বন্ধুত্বের কথা বলে তার সাথে বন্ধুত্ব সম্ভব না। কাটা তার দিয়ে কারো সাথে বন্ধুত্ব করা যায় না। এবং আমরা বিশ্বাস করি এই কাটা তার সেই দেশের জনগণ একদিন উপড়ে ফেলে বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব করবে। বাংলাদেশের সীমান্তকে রক্ষা করার দায়িত্ব এই সরকারের এবং এই দেশের জনগণের যদি সরকার ব্যর্থ হয় জনগণ সেই দায়িত্ব কিন্তু নিজ হাতে তুলে নেবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। বাংলাদেশের আমাদের নদীর যে পানির ন্যায্য হিসসা আদায় করার দায়িত্ব আমাদের। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে সরকার এই বিষয়গুলোতে দৃষ্টিপাত করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখবে। আমরা এরকম একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেটার জন্যই জুলাই গণভুত্থানে আমরা সকলেই অংশগ্রহণ করেছিলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্টভাবেই এটা বলতে চাই যে বাংলাদেশের আমরা সীমান্তের ওপারে দেখছি নানা অস্থিরতা। সেখানকার মুসলমানদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে দমনপীরণ করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশেও এটা প্রোপাগান্ডা করার চেষ্টা করা হবে যে এদেশের মুসলমানরা এদেশের হিন্দুদেরকে নির্যাতন করছে। এই মিথ্যা প্রচার করে তারা সেইখানের মুসলমানদেরকে হত্যাকাণ্ডের করার জায়েজ করবে। কিন্তু আমরা দেখেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও এই মাদ্রাসার ছাত্ররা মন্দির পাহারা দিয়েছিল এবং এদেশের হিন্দুদেরকে যদি কেউ কোন ধরনের কিছু করার চেষ্টা করবে আমরা আমাদের ভাইদেরকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত আছি ইনশল্লাহ।