০৬ মে ২০২৬, ২১:৫৪

ফের ভাঙচুর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমুর বাড়ি

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমুর বাড়ি  © টিডিসি ফটো

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডের পরিত্যক্ত বাসভবনে আবারও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ একদল শিক্ষার্থী। বুধবার (৬ মে) দুপুরে ‘জুলাই ছাত্র আন্দোলনের কর্মী’ পরিচয়ে একদল শিক্ষার্থী ড্রিল কাটার মেশিন দিয়ে বাড়ির প্রধান ফটকটি কেটে ফেলেন।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনতলা এই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি কে বা কারা বাড়িটির সামনে টিনের বেড়া দিয়ে প্রধান ফটক আটকে দিয়েছিল। আজ দুপুরে একদল শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রথমে টিনের বেড়া অপসারণ করেন এবং পরে মেশিনের সাহায্যে ফটকটি কেটে ফেলেন। এর ফলে ভবনটি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।

আজ দুপুরে ‘জুলাই ছাত্র আন্দোলনের কর্মী’ পরিচয় দেওয়া একদল শিক্ষার্থী ওই টিনের বেড়া অপসারণ করেন। পরে ড্রিল কাটার মেশিন ব্যবহার করে ফটকটি কেটে ফেলেন। এতে বাড়িটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে থাকা ঝালকাঠির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. লিখন বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ফ্যাসিবাদের দোসরদের আস্তানা উন্মুক্ত রাখতে টিনের বেড়া অপসারণ করেছেন। এটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রয়োজনে এটি ময়লার ভাগাড় করা হবে। কেউ ইচ্ছা করলে এখানে ‘টয়লেট’ নির্মাণ করতে পারেন।

ঝালকাঠি জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইয়াসিন ফৈরদৌস ইফতি বলেন, “এই বাড়িটি ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতীক হিসেবে থাকবে। এখানে কোনো ধরনের সংস্কার কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন শাসনের পথে না যায়, সে জন্য এটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রাখা হবে।”

ঝালকাঠি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আল তৌফিক লিখন অভিযোগ করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেলেই বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটিতে হামলা চালায়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে ভবনটি পুড়ে যায় এবং তখন থেকেই এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।” তিনি আরও বলেন, “যারা ভবনটি সংরক্ষণের চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করা হবে।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা আমির হোসেন আমুর ওই বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা চেষ্টা চালালেও একপর্যায়ে তিনতলা ভবনটি পুড়ে যায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ওই বাড়ি থেকে কয়েকটি লাগেজ উদ্ধার করে। একটি লাগেজে অক্ষত অবস্থায় এক কোটি টাকা এবং অন্য লাগেজগুলো থেকে আংশিক পোড়া অবস্থায় ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ডলার, ইউরোসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় এক কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এর পর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।