বিধবার নারীর সম্পত্তি দখল, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক বিধবা নারীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও তার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজ আজমীরের বিরুদ্ধে।
আজ শুক্রবার (১ মে) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের শহীদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বিধবা নারী পারুল আক্তার। এ সময় তার তিন সন্তান উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির নাম ব্যবহার করে অব্যাহত হুমকি-ধমকিতে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছে পরিবারটি।
লিখিত বক্তব্যে পারুল আক্তার জানান, তার স্বামী হাজী হোসাইন আহাম্মদ জীবিত থাকাকালীন সময়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের শান্তির হাট বাজারে একটি মার্কেটসহ মোট ১৫৫ শতাংশ জমি তার ও তার ছেলে-মেয়েদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এছাড়া সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে আরও তিন একর জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল তার স্বামী মারা যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্রদল নেতা আজমীর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ওই নেতার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কয়েক দফায় তাদের মারধর করে জখম করে। এক পর্যায়ে শান্তির হাট বাজারের মার্কেটের সবগুলো দোকান আজমীর দখলে নেন এবং জোরপূর্বক দোকানের ভাড়া আদায় করেন। পরে পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ রাখেন। খবর পেয়ে বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন লিটনসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সুবর্ণচরের চাষের জমিগুলোও তার লোকজন দিয়ে দখল করে নেন আজমীর। এসব ঘটনায় তিনি থানা, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাননি। উল্টো ওই নারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এবিষয়ে বসুরহাট পৌর বিএনপি সভাপতি ও বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন লিটন বলেন, ওই নারীকে মারধর কিংবা কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেনি এবং আমি তাদের উদ্ধারও করিনি। পারুল আক্তারের স্বামীর দুই স্ত্রী। পারুল দ্বিতীয় স্ত্রী। পারুলের স্বামী হাজী হোসাইন আহাম্মদ মারা যাওয়ার পর প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা দাবি করছেন পারুল আক্তার তার স্বামীকে দিয়ে জোরপূর্বক জমি ও মার্কেট দলিল করে নিয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা দেখা দিলে আমার কাছে নালিশ করেন। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাগজপত্র ও দালিলিক বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখি। পরে আমি দেখে চলে আসি। এ ঘটনা আরও প্রায় দুই বছর আগের। আজমীরের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগকে তিনি অবিশ্বাস্য মনে করছেন। তবে আজমীর হাজী হোসাইন আহাম্মদের প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের পক্ষে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত এএইচএম আজিজ আজমীর তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের রাজনীতি করেন। তিনি উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী। তিনি যেন সভাপতি হতে না পারেন, সে জন্য একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।
পারুল আক্তারের মার্কেট দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই নারীর নামে কোনো মার্কেট নেই। নারীর প্রয়াত স্বামী হাজী হোসাইন আহাম্মদের প্রথম স্ত্রীর বড় সন্তান লন্ডন প্রবাসী মো. সিরাজুল ইসলামের নামে ওই মার্কেট। তিনি ২০২৩ সালে সিরাজুল ইসলাম দেশে আসলে তার কাছ থেকে ওই মার্কেটের ১১টি দোকান ১২ লাখ টাকায় তিন বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছেন। চলতি বছর তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলে তাকে ১২ লাখ টাকা ফেরত দিলে তিনি মার্কেট সিরাজুল ইসলামকে বুঝিয়ে দেবেন।
এই ছাত্রদল নেতা আরও দাবি করেন, পারুল আক্তার জাল দলিল তৈরি করে স্থানীয় ছাত্রলীগ দিয়ে মার্কেট দখলের চেষ্টা করেছেন। তিনি কোনো চাঁদা দাবি করেননি। এটি ডাহা মিথ্যা অভিযোগ।