সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি : নাহিদ ইসলাম
দেশের রাজনীতিতে ‘সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি’—এই সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভাজন থাকা কাম্য নয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি গত ৫০ বছর ধরে চলেছে। কিন্তু এর সমাধান কেন হলো না? বিএনপি ২৯ বছর জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে। এখন সবাই বলে—সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি। এই রিকনসিলিয়েশন বা মীমাংসা করার দায়িত্ব ছিল বড় দলগুলোর।’
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি গত ৫০ বছর ধরে হয়েছে। আমরা এ সমাধান এখনো কেন করতে পারি নাই। এর দায়ভার কে নিবে? বিএনপি কি নিবে না যারা ২৯ বছর জামায়াতের সাথে রাজনীতি করেছে? একটা কথা তো এখন সবাই বলে সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি। ফলে এটার দায়িত্ব ছিল তো উনাদের, এই রিকনসিলিয়েশন তৈরি করা, এই প্রশ্নের সুরাহা করা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পরে জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষ বলে ভাগ থাকবে এটা তো আমরা প্রত্যাশা করি না।
নাহিদ আরও বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে একমত পোষণ করি যে ইতিহাসের এই বিতর্ক আমাদেরকে সমাধান করতে হবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এবং এটা সব পক্ষকেই এটার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো দেশের ষড়যন্ত্র না, আবার মুক্তিযুদ্ধের নাম করে এ দেশে যে লুটপাট, ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে সেটাও আমাদের ভোলা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ফাউন্ডেশন, এটা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে যে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, তাও ভোলা যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধেরই নবায়ন। আমাদের উচিত ইতিহাসের এই বিতর্ক একপাশে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। মুক্তিযুদ্ধের নাম করে বা পক্ষ-বিপক্ষ কার্ড খেলে জনগণকে আর ভাগ করা যাবে না।’