সরকারের বিভিন্ন কার্ডের অর্থায়ন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন হাসনাতের, যে জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কার্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে তিনি প্রধানমন্ত্রী কাছে এসব কর্মসূচির অর্থনৈতিক চাপ, অর্থায়নের উৎস এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান।
প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকার ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে বছরে মোট প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। অন্যদিকে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দিতে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বিপুল ব্যয় দেশের অর্থনীতিতে কোনো ধরনের মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করবে কি না এবং বর্তমানে চলমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে নতুন এই উদ্যোগগুলোর কোনো সমন্বয় বা পরিবর্তন হবে কি না।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মানুষের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনি নিজেও সাক্ষী। আপনার নির্বাচনী এলাকাতেও আপনাকে মহিলারা ঘিরে ধরেছিল ফ্যামিলি কার্ডের জন্য। আপনি বলেছিলেন, সরকার দিলে আপনি তা বিতরণে সহযোগিতা করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একসঙ্গে সব পরিবারকে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো সরকারের পক্ষেই একবারে চার কোটি পরিবারকে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ করে এটি বাস্তবায়ন করব।’
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের কোনো বিরোধ তৈরি হবে না। বরং যেসব ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা পাচ্ছেন, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি কমিয়ে আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কর্মসূচির সমষ্টিগত ব্যয় হিসাব করলে দেখা যায়, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একজন মানুষ গড়ে যে সহায়তা পাবেন তা তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি বলেন, ‘আমরা টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না। ফলে মুদ্রাস্ফীতির কোনো আশঙ্কা নেই, বরং এটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।’
তিনি আরও বলেন, এই অর্থ সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবাহিত হবে। মানুষ স্থানীয়ভাবে পণ্য কিনবে, যার ফলে দেশীয় উৎপাদন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। তিনি বলেন, ‘এই টাকা বাজারে গিয়ে দোকান, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের গতি বাড়াবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের কর্মসূচি শুধু সামাজিক সহায়তা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, যা দেশের স্থানীয় শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।