যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করুন: অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান দেশবাসীকে যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে ১ মে আন্তর্জাতিক মে দিবস বাস্তবায়নে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরীর শ্রমিক দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
আতিকুর রহমান বলেন, ৭১ সালে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল বৈষম্য নিরসন করে একটি সুখী সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা নিয়ে, কিন্তু দেশ স্বাধীন হলেও শ্রমিকের বৈষম্য দূর হয়নি, তাই এদেশে আবার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করতে হয়েছে জুলাইয়ের আন্দোলনের জীবনদানকারী অধিকাংশ শ্রমিক হওয়ার পরেও শ্রমিকের প্রতি বৈষম্য এখনো শেষ হয়নি, বরং তা আরও তীব্র হচ্ছে। আমরা এবছর মে দিবস শুধু পালনের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ না রেখে শ্রমিক বৈষম্য রোধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান করছি, আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান করছি আমাদের শুধু আইন করলেই হবে না শ্রমিকের প্রতি হিংসা, বৈষম্য দূরীকরণে আপনাদের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই।
তিনি আরও বলেন, এদেশের শ্রমিকদের চাওয়া পাওয়া খুব মামুলি। কিন্তু এদেশের কোনো সরকার আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের ন্যূনতম এই দাবিটুকু পূরণ করতে সদয় হয়নি। মূলত রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা যায় তারা শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক সংগঠন অধিকারের নামে মালিক ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছে। আমি তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই মালিক যদি না থাকে তাহলে শ্রমিকরা কাজ করবে কোথায়? শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কোথায় হবে? তারা মালিক-শ্রমিকের মাঝে বিভেদের দেয়াল তুলতে চাইলেও আমরা মালিক-শ্রমিকের মাঝে ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। ইসলাম বলে, শ্রমিক-মালিক পরস্পর সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করবে। একে অপরের শত্রু হবে না। শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে। শিল্পও বাঁচবে।
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকের সকল দায়িত্ব মালিকের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। মালিক ইনসাফ অনুযায়ী শ্রমিকের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অবশিষ্ট দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি সরকারের কাছে শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নিতে জোর দাবি জানান।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো: তসলিম এর পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি কবির আহম্মদ, মুজিবুর রহমান ভূইয়া, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, মহানগরী উত্তরের সভাপতি মুহিব্বুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন, কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ আজহারউদ্দীন, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক জামিল মাহমুদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান, হাফেজ আঃ মোমেন, ফারদিন হাসান হাসিব প্রমুখ।