০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৬

শতাধিক গুম-হত্যা মামলার আসামী জিয়াউল আহসানের মুক্তি চাইলেন রোকেয়া প্রাচী

রোকেয়া প্রাচী ও জিয়াউল আহসান   © সংগৃহীত

শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন অভিনেত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী রোকেয়া প্রাচী।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জিয়াউল আহসানের ছবির ওপর 'নিঃশর্ত মুক্তি চাই' লেখা একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে তিনি এই দাবি জানান। জিয়াউল আহসান বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্যে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে গাজীপুরে নিজ হাতে বন্দীদের গুলি করে হত্যা, বরগুনার বলেশ্বর নদীতে অন্তত ৫০ জনকে পেট কেটে ও পাথর বেঁধে ডুবিয়ে মারা এবং সুন্দরবনে বনদস্যু দমনের নামে আরও ৫০ জনকে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংস্থা জানায়, ২০০৯ সালে র‍্যাবে যোগ দেওয়ার পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে সেনাবাহিনীর কোনো অপারেশনাল কমান্ডের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নজিরবিহীনভাবে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং ২০২৪ সালে বাধ্যতামূলক অবসর পর্যন্ত পুরো সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলোতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম ও ইলিয়াস আলীর গুম এবং ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযানে নিহতের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পৃথক তদন্ত চলছে।

অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। জিয়াউল আহসানের মুক্তি চেয়ে এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলেন।