ধানের শীষে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানালেন রুমিন ফারহানা
জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষৈ মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে সংসদে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিকালের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিন সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রুমিন ফারহানা বলেন, আমাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া কত লক্ষ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া, সহযোগিতা দিয়ে আমার পাশে ছিলেন। একটা দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে এটা বুঝবার সৌভাগ্য আমার হতো না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অন্য সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কি পরামর্শ দিলেন সেই ব্যাপারেও কোথাও কোনও প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় না। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার ব্যাপারে বারবার আলোচনা হয়েছে। সরকারিদল, বিরোধীদল ২৪’র অভ্যুত্থানের আগে পরে সবসময় বলা হয়েছে-রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হোক। বিএনপি তার ভিশন ২০৩০ এবং ৩১ দফাতেও এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, সে কারণেই সঙ্গতভাবে আমাদের একটা প্রত্যাশা ছিল যে, এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত ভাষণের বাইরে গিয়ে তার নিজের মতন করে ভাষণ দিতে পারবেন। কিন্তু আমরা দেখলাম—এইবারও রাষ্ট্রপতির ভাষণ মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত একটি ভাষণ তাকে দিতে হলো। আমরা যদি এতটুকু স্বাধীনতা রাষ্ট্রপতিকে দিতে না পারি তাহলে আর আমরা কোন ভারসাম্যের কথা বলছি?
রুমিন ফারহানা বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মী যারা নানানভাবে বঞ্চিত হয়ে ভয়ভীতির মধ্যে দিয়ে আমার নির্বাচন করেছেন, দল থেকে বহিস্কার হয়েছেন কিন্তু তারা আমাকে ছেড়ে যান নাই। তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি আরও ধন্যবাদ জানাই বিএনপিকে আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্যে।
বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি দেশনেত্রী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যিনি আমাকে স্নেহ দিয়ে রাজনীতিতে এনেছিলেন এবং আমি বিশ্বাস করি তার অপূর্ণতা এই সংসদে কোনোদিন পূরণ হবে না।