এনসিপিকে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বেশি দেওয়ার চিন্তা, আলোচনায় দুই নেত্রী
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন এমপি পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট। এতে সংসদ সদস্যের সংখ্যা বিবেচনায় আনুপাতিক হারে একটি আসন পাওয়ার কথা রয়েছে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। তবে দলটিকে আরও একটি আসন দেওয়ার আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতও বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক বলে জানিয়েছে। তবে বিষয়টিতে আইনগত কোনও জটিলতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন জোটের নেতারা।
এনসিপির দায়িত্বশীল সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছে, সংসদ সদস্যের অনুপাতে এনসিপি থেকে একটি আসন পাওয়ার কথা। তবে তাদের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর কাছে দুটি আসন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত দিকগুলোও দুই দলই খতিয়ে দেখছে।
সূত্রটি আরও জানায়, এনসিপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহবায়ক মনিরা শারমিন অনেকটাই চূড়ান্ত। আরেকটি আসন পেলে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে সেখানে দেওয়া হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত সংখ্যক সংসদ সদস্য না থাকলেও সংরক্ষিত আসনে কোনও দলকে অতিরিক্ত আসনে নারী এমপি হওয়ার সুযোগ আছে কিনা, সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নয় বিরোধী দলীয় জোট। ফলে আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি সুযোগ না থাকে, সে ক্ষেত্রে জামায়াতের পদবি দিয়ে এমপি করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে জামায়াত বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এনসিপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই দুটি আসনের জন্য জামায়াতকে বলে আসছি। সোমবারও বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। তবে জামায়াত হ্যাঁ কিংবা না- কিছুই বলেনি। এর সঙ্গে আইনগত কোনও ব্যাপার আছে কিনা, আমরা সে বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করছি।’
আরও পড়ুন: জামায়াতকর্মী সাওদা সুমি মুক্ত
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে আগামী ১২ মে। আজ মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দ্রুত তাদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১১তম কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত ১৩টি এবং স্বতন্ত্র একটি পাবে। ছয়জন স্বতন্ত্র এমপি একজোট হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক দল আছে। জামায়াতের সঙ্গে আছে দুটি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও রুমিন ফারহানা কোনও জোটে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের নারী প্রার্থীর তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির তাদের নাম জানানো হবে। এনসিপি একটি আসন পাচ্ছে। আনুপাতিক হারে তাদের আরেকটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।’