০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৭

কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না ভোটের মাঠে, শেষ পর্যন্ত জিতবেন কে?

মাহমুদুল হক রুবেল ও মাসুদুর রহমান মাসুদ  © সংগৃহীত

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিতকৃত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। আগামী ৯ এপ্রিলের ভোটকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। মাঠের চিত্র বলছে, কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দিতে রাজি নন।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ (দাঁড়িপাল্লা) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান (কাঁচি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, দিনভর গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় সরব প্রার্থীরা। রাত গভীর পর্যন্ত চলছে মাইকিং ও স্লোগান। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে হারানো গৌরব ফিরে পেতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। তার পক্ষে পারিবারিক প্রচারণাও ব্যাপক আলোচনায়—স্ত্রী ফরিদা হক দিপা ও মেয়ে রুবাইদা হক রিমঝিম নারী ভোটারদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করছেন, আর ছেলে রাফিদুল হক তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

অন্যদিকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি মরহুম জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই। বড় ভাইয়ের জনপ্রিয়তা ও দলীয় সুসংগঠিত কর্মী বাহিনীকে পুঁজি করে তিনি নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বর্তমানে সরকার বিএনপির হওয়ায় এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে। তাদের ভাষ্য, অন্য কাউকে ভোট দিলে আমাদের এলাকা উন্নয়ন বঞ্চিত হতে পারে, তাই ধানের শীষেই ভোট দেবেন।

তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। অন্য একাংশ ভোটার বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটি একটি নির্দিষ্ট পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাদের দাবি, ‘তার বাবা এমপি ছিলেন, তার চাচা এমপি ছিলেন, রুবেল নিজেও তিনবার এমপি হয়েছেন। এবার আমরা নতুন মুখ দেখতে চাই।’

বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘আমি সব সময় মানুষের পাশে থেকেছি। এলাকার প্রতিটি সমস্যা আমার জানা। ভোটাররা আবারও ধানের শীষের পক্ষে রায় দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি ‘

জামায়াত প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, ‘মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চায়। আমি বিশ্বাস করি, ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করবেন।’

অন্যদিকে বাসদ (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, ‘মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি নির্বাচন করছি। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।’

উল্লেখ্য, এ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। নতুন তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে উত্তাপ ছড়ানো এ নির্বাচনে ভোটের মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। এখন দেখার বিষয়—শেষ হাসি কে হাসেন।