০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১১

বিএনপিকে বিটিভির পুরোনো সম্প্রচার দেখার পরামর্শ আখতারের

সংসদে কথা বলছেন আখতার হোসেন  © সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ধারণা কীভাবে এল তা বিএনপি ভুলে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। একই সঙ্গে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিটিভির পুরোনো সম্প্রচার থেকে এই ধারণা কীভাবে এসেছে তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে অধিবেশনে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন আখতার। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি তুলেছিলাম গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন একটা সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। সরকার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সংসদের মাধ্যমে সেটা করতে হবে। তারপর ঐকমত্য কমিশনে সকল দল আলাপ-আলোচনা করার পরে সকলে মিলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে গণপরিষদও না, সংসদও না, গাঠনিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে এই বিষয়টা সুরাহা করতে হবে।

আখতার বলেন, যদি তারা এটি ভুলে গিয়ে থাকেন, স্মৃতিগুলো তাদের মনে না পড়তে পারে, বিটিভিতে সেগুলো টেলিকাস্ট করা হয়েছিল, সেখান থেকে তারা যেন দেখে নেয়, কিভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইডিয়াটা সেখানে এসেছিল। এখানে যারা আছেন, তারাই এখন ভুলে গিয়েছেন, এটি আমাদেরকে হতাশ করে।

এনসিপির সদস্য সচিব তার বক্তব্যে বলেন, আজকে যারা সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা আছেন, তারা স্মৃতি বিস্মৃত হয়ে গেছেন, সেই বিষয়টা আমাদেরকে কষ্ট দেয়। ৩১ জুলাই যেদিন ঐকমত্য কমিশনে সংস্কারের প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনার কনক্লুশান হল, সেই দিনই সেই বৈঠকে বাস্তবায়নের বিষয় কী আলোচনা হতে পারে, সেটা নিয়ে আমরা সবগুলো রাজনৈতিক দল আলোচনা করেছিলাম। সেটা নিয়ে আলোচনা সমাপ্ত হয়েছে, সেই আলোচনার ফলাফল আজকে বিএনপি মানতে চায় না। এই কারণে আজকে বিএনপি ব্যাকস্পেস চেপে পেছনে ফিরে যেতে চায়।

তিনি বলেন, সংস্কারের ‍পুরো বিষয়বস্তু— জুলাই সনদ, আদেশ, অধ্যাদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ— এই পাঁচটা ধাপ রয়েছে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা আদেশের কথা বলেন না, অধ্যাদেশের কথা বলেন না, গণভোটের কথা বলেন না, সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলেন, তারা শুধুমাত্র জুলাই সনদের কথা বলেন। ওই জুলাই সনদ, যেটা তাদের পক্ষে— জুলাই সনদ উইথ নোট অব ডিসেন্ট।

ঐকমত্য কমিশনের খসড়া সনদে কোনো নোট উল্লেখ ছিল না উল্লেখ করে আখতার বলেন, ঐকমত্য কমিশন থেকে আমাদেরকে যে জুলাই সনদ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কোনো নোটের কথা ছিল না। কিন্তু জাতীয় সংসদের বাইরে স্বাক্ষর করার সময় কোনো একটি দল বা কোনো একজন ব্যক্তি নিজে এই নোট যুক্ত করেছিল, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। এই বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনে দায়িত্বশীল যারা ছিলেন এবং এখানে যারা উপস্থিত আছেন, একটা তদন্ত করে এই বিষয়টির খোঁজ চাই।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের আইনগত বৈধতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু তারা জুলাই সনদটা যদি পড়তেন, জুলাই সনদের Preamble এর মধ্যে লেখা আছে, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই আদেশ জারি করা হয়েছিল। যারা জনগণের কথা বলছেন যে জনগণ কি এতকিছু পড়ে ভোট দিয়েছে, জনগণকে যারা সংসদে দাঁড়িয়ে মূর্খ সাব্যস্ত করতে যাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলি, আপনাদের এই পজিশন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার পর আজকে গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বিএনপির দলগত মূর্খতা এবং শঠতাকে প্রকাশ করছে।