০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১

গোপনে বিক্রি করা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের অফিস

কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সমবায় মার্কেট  © সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের অফিস গোপনে বিক্রি করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। সরকারি পতনের পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় শহরের মৌলভীপাড়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সমবায় মার্কেটে দলের অফিস করার জন্য ক্রয় করা ৩টি দোকানঘর কয়েক মাস আগে বিক্রি করা হয়। 

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দোকান বিক্রি করে পাওয়া অর্থ মামলা-মোকদ্দমার খরচ মেটাতে এবং জেলাশ্রমে থাকা অসহায় নেতাকর্মীদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়েছে।

দলের দায়িত্বশীল নেতারা সরাসরি দোকান বিক্রির বিষয়টি স্বীকার না করলেও জানা যায়, রেজুলেশনের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এখনও সম্পন্ন হয়নি, তাই বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ।

দলের শীর্ষ নেতারা জানান, সরকার পতনের আগ পর্যন্ত শহরের হলদারপাড়ার সংসদ সদস্যের কার্যালয় থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালিত হত। স্থায়ী অফিসের অভাবে সমবায় মার্কেটে দোকান তিনটি ক্রয় করা হয়েছিল। তবে বিক্রির খবর প্রকাশ্যে আসার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

এক নেতা বলেন, সরকার পতনের এক বছর পার হলেও দলের নেতারা সক্রিয় হয়নি। অনেক এমপি জেলে, নেতাকর্মী অ্যারেস্টেড। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের নামে একটি বিবৃতি দেওয়ার সাহসও পাননি।

স্টার টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী সালাম চৌধুরী জানান, দোকান ৩টির মালিক এখন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আল মামুন সরকারের কাছ থেকে ৫ বছর আগে এগুলো ক্রয় করেছেন বলে তার দাবি। তার কাছে দোকান ক্রয়ের কাগজপত্র রয়েছে বলেও জানান।

পুলিশ সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জেলায় মোট ১৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার এজাহারনামীয় আসামির সংখ্যা ১৩৬২ জন, অজ্ঞাত আসামি ২৩ হাজার ৬৪০ জন। তবে দলীয় নেতাদের দাবি, আসামির সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এই মামলার মধ্যে সদরে ১৭টি, বিজয়নগরে ৩টি, নাসিরনগরে ১টি, সরাইলে ৩টি, আশুগঞ্জে ৬টি, নবীনগরে ৩টি, কসবায় ৪টি, আখাউড়ায় ৬টি এবং বাঞ্ছারামপুরে ৩টি মামলা রয়েছে, যার মোট ৪৮৮০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, পার্টির নামেই দোকানগুলো বরাদ্দ নেয়া। মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে বলে আমার জানা নেই। মালিকানা পরিবর্তন হতে হলে আমার স্বাক্ষর লাগবে। ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষর লাগবে। ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে ইউএনও সাহেবের স্বাক্ষর লাগবে। সহকারী কমিশনার-ভূমি হচ্ছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি। মালিকানা হস্তান্তর করতে হলে নির্ধারিত ফি আছে তা জমা দিয়ে আবেদন করে অনুমতি নিতে হয়। বর্তমানে ইউএনও স্যার এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ। আমি যেহেতু সিগন্যাচার করেনি এটা বৈধ কিছু নয়।